‘হত্যার উদ্দেশে’ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবকদল নেতা সৈয়দ শিমুলকে ট্রাকচাপা দেওয়া হয়েছে। এতে গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৮নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
সোমবার (১৭ মার্চ) রাত পৌনে ৯টার দিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জের দ্বিতীয় মহানন্দা সেতুর পাশে এ ঘটনাটি ঘটানো হয়।
আহত সৈয়দ শিমুল চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য ও জেলার সদর উপজেলার নীমতলা ফকিরপাড়া এলাকার সৈয়দ মাহবুব হোসেন লালার ছেলে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত সোমবার সন্ধ্যায় নন্দিত টিভি নামের একটি অনলাইন পোর্টালের চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি মো. আব্দুর রহিমের কাছে অপরিচিত একটি নম্বর থেকে কল আসে। তাকে জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের দ্বিতীয় মহানন্দা সেতুর পাশের চর থেকে অনুমতি ছাড়াই ভেকু দিয়ে বালু কেটে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে সংবাদকর্মী রহিম তার কাছের বড়ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শিমুলকে নিয়ে ওই দিন রাত পৌনে ৯টার দিকে সরেজমিন অনুসন্ধানে ঘটনাস্থলে যান।
এসময় অবৈধভাবে বালু কাটার বিষয়ে জানতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। এমন সময় কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী, বালু বহনের কাজে ব্যবহার হওয়া ট্রাক্টর তাদের গায়ের ওপর তুলে দেওয়া হয়। এসময় রহিম দ্রুত সরতে পারলেও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শিমুল ট্রাক্টরের চাকার নিচে পিষ্ট হন। এতে তার পিঠের মেরুদণ্ডের দুটি হাঁড় ও মাথার দুই পাশের হাঁড় ভেঙে যায়। বাম চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। চোখের উপরে সেলাই পড়ে অন্তত ১৮টি।
এছাড়া শরীরের বিভিন্ন স্থান থেতলে যায়। এতে শিমুল ঘটনাস্থলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। পরে গুরুতর আহত শিমুলকে উদ্ধার করে তার সহযোগী রহিম তাকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালের ৮নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সংবাদকর্মী মো. রহিম বলেন, ভূমিদস্যুরা অবৈধভাবে সেখানে বালু উত্তোলন করছে- এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত সোমবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। সঙ্গে আমার কাছের বড়ভাই সৈয়দ শিমুলকে নেই। সেখানে পৌঁছার পরই কিছু লোকজন আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। তাদেরকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে, আমরা এখানে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করতে এসেছি। তাদের কাছে আমরা বালু উত্তোলনের বৈধ কাগজপত্র দেখতে চাই। তখন তারা বলে যে, কাগজপত্র আছে কিনা সেটি আমাদের ব্যাপার। তাদের সঙ্গে এমন কথাবার্তা বলতে বলতেই পেছন থেকে দুটি ট্রাক আমাদের ওপর দিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমি ভাগ্যক্রমে বেঁচে গেলেও আমার বড়ভাইয়ের ওপর দিয়ে তারা ট্রাকটি নিয়ে চলে যায় এবং সঙ্গে সঙ্গেই তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আমি এখনও মামলা দায়ের করিনি। মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
আহত স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সৈয়দ শিমুল বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেসুর রহমানের সহযোগী সঞ্জুসহ তার বাহিনী অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে এমন সংবাদের ভিত্তিতেই মূলত আমরা সেখানে যাই। এসময় সঞ্জু ও তার সহযোগী রায়হানসহ কয়েকজন পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী আমাদের হত্যার উদ্দেশে কোনো কিছু বুঝে না ওঠার আগেই ট্রাকচালক ইকবাল গায়ের ওপর ট্রাক তুলে দেয়। ট্রাকটি আমার গায়ের ওপর দিয়ে যায়। তবে সেখানে নরম বালু থাকায় আমি প্রাণে বেঁচে গেছি। এখন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি।
আহত সৈয়দ শিমুলের স্ত্রী জেমি আক্তার বলেন, গত সোমবার ইফতারির পর আমার হাজবেন্ড বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। রাত পৌনে ৯টার দিকে ফোন আসে তিনি গুরুতর আহত। পরে হাসপাতালে যায়। এটা পূর্বপরিকল্পিত। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
জানতে চাইলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান কালবেলাকে বলেন, এমন কোনো ঘটনা আমাদের জানা নেই।
মন্তব্য করুন