লক্ষ্মীপুরের রামগতির আলেকজান্ডার সরকারি মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম লেখা সাইনবোর্ডের ওপরে লাগানো আরেকটি সাইনবোর্ড। এতে লেখা ‘উপজেলা প্রশাসন পার্ক’। এখনো মাঠটিতে পার্কের কোনো চিহ্ন না দেখা গেলেও এর চারপাশে একটি ওয়াকওয়ে (হাঁটাপথ) নির্মাণ করেছে রামগতি পৌরসভা।
এজন্য ২৮ লাখ ৫৩ হাজার ৯০০ টাকা বরাদ্দ দিয়েছিল পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। কাজটি করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জোবায়দা ট্রেডার্স। আলেকজান্ডার মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠটি পার্ক বানানোর নামে সরকারি প্রকল্প দেখিয়ে এভাবে টাকা তোলা হচ্ছে। এতে মাঠ দখল হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
রামগতি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর-রামগতি আঞ্চলিক সড়কের দক্ষিণ পাশে আলকজান্ডার মডেল সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে ওয়াকওয়ে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুলের গেটে ‘উপজেলা প্রশাসন পার্ক’ লেখা সাইনবোর্ড লাগিয়ে দেওয়া হয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জোবায়দা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী সাবেক পৌর মেয়র মেজবাহ উদ্দিন মেজুর ভাই সাইফ উদ্দিন বাবু। সরকার পতনের পর থেকে তিনি পলাতক থাকলেও হুট কর প্রকল্পটির কাজ শুরু করা হয়। এরই অংশ হিসেবে নির্মাণ করা হয়েছে ওয়াকওয়ে।
পৌরসভার কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, এই অনিয়মের সঙ্গে সরাসরি জড়িত রামগতির ইউএনও সৈয়দ আমজাদ হোসেন। তিনি রামগতি পৌরসভারও প্রশাসক। তাই এখন পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসন- সবই তার নিয়ন্ত্রণে। মঙ্গলবার সকালে স্কুলে গিয়ে কয়েকজন শ্রমিককে কাজ করতে দেখা যায়। তবে প্রকল্প এলাকায় তথ্যসংবলিত কোনো সাইনবোর্ড নেই।
স্থানীয়রা বলেন, চারপাশে দেয়াল তুলে দিয়ে প্রায় শত বছরের পুরোনো স্কুল মাঠটি সংকুচিত করা হয়েছে। এখন আবার পার্কের সাইনবোর্ড লাগিয়ে সবসময় তালাবদ্ধ করে রাখা হচ্ছে। এতে পৌরসভার প্রধান এই খেলার মাঠে কেউ আর খেলাধুলা করতে পারবে না। এমন চলতে থাকলে অচিরেই হারিয়ে যাবে ঐতিহ্যবাহী এ মাঠটি।
স্কুল মাঠ দখল করে ওয়াকওয়ে ও পার্কের সাইনবোর্ড লাগানোর বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক বদরুল ইসলাম কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সাইফ উদ্দিন বাবু পলাতক, তাই তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। রামগতি পৌরসভার সচিব মাসুদ রেজার সঙ্গে কথা বলতে একাধিকবার চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি।
রামগতি পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ আমজাদ হোসেন কালবেলাকে বলেন, স্কুলের মাঠে পার্ক হওয়ায় এলাকাবাসী খুশি। এতে খেলাধুলার কোনো সমস্যা হবে না। সাইনবোর্ড থাকলেও পার্ক নেই- এমন প্রশ্ন এড়িয়ে যান তিনি।
মন্তব্য করুন