ফরিদপুরের সালথা উপজেলা যুবদল নেতা হাসান আশরাফের বাড়িতে হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন মাতুব্বরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
রোববার (১৯ জানুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সালথা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক চৌধুরীর এমদাদ আলী সিদ্দিকী খসরু স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে লিপ্ত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফরিদপুর জেলাধীন সালথা উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাসির উদ্দিন মাতুব্বরকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
সালথা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার কালবেলাকে বলেন, শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের নকুলহাটি বাজারে বিএনপির দু’গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। রোববার সকালে যুবদল নেতা হাসান আশরাফের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িত থাকার কারণে নাসিরকে দল থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ ইসলাম রিংকু এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখতে সকল নেতাকর্মীকে নির্দেশ দিয়েছেন। তারপরেও নাসির সহিংস কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকায় তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এলাকার আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সালথা উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক নাসির মাতুব্বরের সঙ্গে উপজেলা যুবদল নেতা হাসান আশরাফের বিরোধ চলছিল। এরই জেরে শনিবার সন্ধ্যায় স্থানীয় নকুলহাটি বাজারে বিএনপি নেতা নাসির মাতুব্বর ও যুবদল নেতা হাসান আশরাফের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে উভয় গ্রুপের অন্তত ১০ জন আহত হন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় উভয় গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল।
রোববার সকালে বিএনপি নেতা নাসির মাতুব্বর ও তার কয়েকশত সমর্থক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে যুবদল নেতা হাসান আশরাফের বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় হাসান আশরাফের সমর্থক স্থানীয় ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজেদ মোল্যার দুটি ঘর, ইউনুস মোল্যা দুটি ঘর, বিভাগদী গ্রামের শহীদ সরদারের ঘর ও শফিকের একটি দোকান ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
মন্তব্য করুন