জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ও আলোচক ড. মিজানুর রহমান আজহারি ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে যোগে মাহফিলে যোগ দিতে লালমনিরহাট পৌঁছেছেন। এ সময় তাকে একনজর দেখতে লাখো মানুষের ঢল নামে ওই এলাকায়।
শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে শেখ শফি উদ্দিন কমার্স কলেজ মাঠে হেলিকপ্টারে পৌঁছেন তিনি।
এদিকে সকাল থেকে শুরু হয় ঐতিহাসিক তাফসিরুল কোরআন মাহফিল। প্রথম অধিবেশনে আলোচনা করেন স্থানীয় ইসলামী আলোচকরা। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতারা বক্তব্য দেন। মাহফিল অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন রংপুর বিভাগীয় কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
মাহফিলকে ঘিরে শুক্রবার রাতেই কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে মাহফিলের ময়দান। সকাল থেকে মানুষের এই চাপ আরও বাড়তে শুরু করেছে। তাদের নিরাপত্তায় বিপুল পুলিশ, র্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা টহল দিচ্ছেন।
মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির অন্যতম সদস্য মো. রেনায়েল আলম রেল বিভাগের অতিরিক্ত এ ট্রেনের নতুন কোচ সুবিধা চালুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া রংপুর বিভাগের আট জেলা থেকে শত শত বাস লালমনিরহাট আসার খবর পাওয়া গেছে। লালমনিরহাট জেলা মোটর মালিক সমিতির বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা গেছে, শনিবার জেলায় আজহারির মাহফিলকে কেন্দ্র করে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাক চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রাখা হয়েছে।
‘ইসলামিক সোসাইটি লালমনিরহাট’ নামের সংগঠনের ব্যানারে মাহফিলটির আয়োজন করা হয়েছে। এই মাহফিলে কমপক্ষে ১০ থেকে ১২ লাখ মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করছে আয়োজক কমিটি। মূল প্যান্ডেল ছাড়াও মোট পাঁচটি মাঠ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মাহফিল ঘিরে তৎপর লালমনিরহাটের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আনসার, পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীসহ রয়েছে আয়োজকদের স্বেচ্ছাসেবকের বিশাল কর্মী বাহিনী।
মাহফিলে সভাপতিত্ব করবেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল হাকিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু।
মাহফিলের সভাপতি আব্দুল হাকিম বলেন, মাহফিল সফল করতে সব ধরনের প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে মাঠগুলোতে। পুরো শহরে সাউন্ড সিস্টেমের মাধ্যমে বক্তা ও অতিথিদের বক্তব্য শুনতে পারবেন মানুষ।
লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম বলেন, মিজানুর রহমান আজহারির মাহফিলে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রস্তুত রয়েছে আনসার, পুলিশ র্যাবসহ সেনাবাহিনীর সদস্যরা। আয়োজকদের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক থাকবে প্রায় পাঁচ হাজার।
মন্তব্য করুন