শেরপুর জেলার শ্রীবরদী উপজেলার এক তরুণীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে জামালপুরের দয়াময়ী মোড় যৌনপল্লিতে বিক্রির অভিযোগে লোকমান মিয়া (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব।
রোববার (১৩ আগস্ট) রাতে রাজধানীর বিমানবন্দর দক্ষিণখান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-১৪ এর আভিযানিক দল।
র্যাব-১৪ জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিকুউজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ওই ঘটনার পর থেকে আসামি গ্রেপ্তার এড়াতে দেশের বিভিন্ন জেলায় আত্মগোপনে থাকে। এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে র্যাবের একটি অভিযানিক দল ঢাকা জেলার বিমানবন্দর এলাকার দক্ষিণখানে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে আসামি লোকমান মিয়াকে শ্রীবরদী থানায় সোপর্দ করা হয়।
এদিকে গত ৯ আগস্ট শ্রীবরদী থানায় ভুক্তভোগী তরুণীর মা আসামি লোকমান মিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তার লোকমান শেরপুর সদর উপজেলার চরশেরপুর গ্রামের জনৈক ইসমাইল হোসেনের ছেলে।
এদিকে মেয়ে পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি পারিবারিক সম্মানের ভয়ে কাউকে না জানিয়ে গোপনে খুঁজতে থাকেন তার অভিভাবকরা । একপর্যায়ে ৫ আগস্ট তরুণীর মায়ের মোবাইল ফোনে অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন আসে। ফোনটি রিসিভ করতেই ওই নাম্বার থেকে ‘আমাকে বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিৎকার শোনা যায়। তবে এসময় ঠিকানা বলতে পারেনি ভুক্তভোগী তরুণী।
র্যাব-১৪ জামালপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার আশিকুউজ্জামান বলেন, শ্রীবরদী উপজেলার ওই তরুণীর পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ঝিনাইগাতী উপজেলার পাইকুড়া গ্রামের এক যুবকের সঙ্গে। সংসারে বনিবনা না হওয়ায় প্রায় দুই বছর আগে ওই সংসার ভেঙে যায়। এরপর ওই তরুণী বাবা-মায়ের সঙ্গে গাজীপুরে বসবাস করতো। বাবা-মায়ের সঙ্গে একই পোশাক কারখানায় কাজ করতো লোকমান। সেই সুবাদে বাসায় আসা-যাওয়ার সূত্র ধরে তরুণীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে লোকমান।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি জানাজানি হলে তরুণীকে নানাবাড়ি শ্রীবরদী উপজেলার দক্ষিণ লঙ্গরপাড়ায় পাঠিয়ে দেয় তার বাবা-মা। এতে লোকমান ক্ষিপ্ত হয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে যোগাযোগ করে। একপর্যায়ে বিয়ের প্রলোভনে ফেলে গত ২০ জুন নানাবাড়ি থেকে তরুণীকে নিয়ে যায়। দিনভর নানা জায়গায় ঘোরাফেরা করে কৌশলে ওই তরুণীকে জামালপুর যৌনপল্লিতে বিক্রি করে পালিয়ে যায় প্রতারক প্রেমিক লোকমান মিয়া।
উল্লেখ্য, ভিন্ন মাধ্যমে মেয়েকে জামালপুর যৌনপল্লিতে বিক্রির বিষয়টি জানতে পেরে ৯ আগস্ট শ্রীবরদী থানায় মামলা দায়ের করেন ওই তরুণীর মা। মামলার পর রাতেই ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
মন্তব্য করুন