জামালপুরে সরিষাবাড়ীতে অপহরণের শিকার ইউপি সদস্য নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) দুপুরে সরিষাবাড়ী থানার ওসি মো. চাঁদ মিয়া কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ইউপি সদস্য নুরুল ইসলাম উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের মেম্বার ও নলসন্ধ্যা গ্রামের বাসিন্দা।
নুরুল ইসলামের প্রথম স্ত্রী ফোয়ারা বেগম বলেন, আমার স্বামী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা। গত ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি পালিয়ে আছেন। গতকাল তার ছোট স্ত্রীর ডাকে তার বাড়িতে যান। যাওয়ার পর এলাকার কিছু লোকজন দেখে ফেলে এবং তাকে অপহরণ করে মেরে ফেলার জন্য যমুনা নদীর ওপারে দুর্গম চরাঞ্চলে নিয়ে যান। পরে পুলিশ সংবাদ পেয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার সারা শরীরে বেদম মারধরের জখম রয়েছে। তার উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেলার হাসপাতালে রেফার্ড করেছেন চিকিৎসকরা।
ইউপি সদস্যের দ্বিতীয় স্ত্রী লতিফা বেগম বলেন, বিকেলের দিকে আমার স্বামী আমার বাড়িতে আসে। আসার পর সে মোবাইলে কথা বলতে বলতে বাহিরে যায়। এ সময় কে বা কারা তাকে দেখে ফেলে। পরে নলসন্ধ্যা গ্রামের মৃত ফজল মেম্বারের ভাই সাখাওয়াত, বজল ও ছেলে সুভাষের নেতৃত্বে কিছু দুষ্কৃতকারী লোকজন এসে বাড়ি ঘেরাও করে এবং হামলা ও ভাঙচুর করে। এ সময় হত্যার উদ্দেশ্যে নুরুল ইসলামকে ধরে নিয়ে যায়। পরে এ বিষয়টি পুলিশকে অবগত করলে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে।
ওসি মো. চাঁদ মিয়া বলেন, রোববার সন্ধ্যায় ৯৯৯-এর মাধ্যমে জানতে পারি, উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার ও নলসন্ধ্যা গ্রামের বাসিন্দা মো. নুরুল ইসলামকে কিছু দুষ্কৃতকারী অপহরণ করে হত্যার উদ্দেশ্যে যমুনা নদীর দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এমন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর জেলা পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামকে বিষয়টি অবগত করি। পরে তার নির্দেশনায় একটি চৌকস পুলিশের দল ঘটনাস্থলে যায় এবং সেখানে গিয়ে জানতে পারি, তাকে যমুনার ওপারে নলসন্ধ্যা মহিষা বাতান চরাঞ্চল এলাকায় নিয়ে গেছে দুষ্কৃতকারীরা।
তিনি আরও বলেন, সেই দুর্গম চরাঞ্চলে অভিযান চালিয়ে অপহৃত নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অপহৃত দুষ্কৃতকারীরা বিভিন্ন দিকে ছোটাছুটি করে পালিয়ে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় নুরুল ইসলামকে উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহত নুরুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। এখনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।
সরিষাবাড়ী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক রবিউল ইসলাম বলেন, সারা শরীরে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে একজন হাসপাতালে এসেছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি দেখে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন