বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক সারজিস আলম বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ মহান বিজয় দিবসকে পারিবারিক সম্পদে পরিণত করেছিল। মহান বিজয় দিবস ছিল আওয়ামী লীগের বিজয় দিবস। এই দিবসে শুধু দুটি গান বাজানো হতো, যা আপনারা সবাই জানেন।
মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুরে মহান বিজয় দিবস ও জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভা, চিত্রাঙ্কন, কবিতা আবৃত্তি ও রচনা প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস আলম বলেন, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা, সংবিধান ও রাষ্ট্র কারো কোনো একক দল, ব্যক্তি কিংবা পরিবারের হতে পারে না। গত ১৬ বছরে আমরা কেউ এসবের বিরুদ্ধে কথা বলতে পারিনি। যারাই এসবের বিপক্ষে কথা বলেছেন তাদের গুম, খুন ও হত্যা করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, হাসিনা সরকারের পতন হয়েছে তার অত্যাচারের কারণে। এমন লজ্জাজনক পতন বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো প্রধানমন্ত্রী কিংবা সরকার প্রধানের হয়নি। আগামীতেও আর এমন ঘটনার অবতারণা বাংলাদেশের মাটিতে হবে না। গত ১৫ ডিসেম্বর গুম কমিশনের একটি রিপোর্ট এসেছে সেখানে বলা হয়েছে, যারা হাসিনা রেজিমের বিরোধিতা করেছে, তাদের গুম করা হয়েছে। টর্চার সেলে নিয়ে নির্যাতনের মাধ্যমে গুম করা হয়। এমন অসংখ্য মানুষের নির্যাতনের ঘটনা ওই রিপোর্টে উঠে এসেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এ সমন্বয়ক বলেন, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব কেড়ে নিতে ভারত গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। তাদের দোসর আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় বসাতে উঠে পড়ে লেগেছে। তাই দেশের জনগণ একবিন্দু রক্ত থাকতে ভারতের সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে যাবে।
সারজিস আলম আরও বলেন, আগামী দিনে আমাদের লড়াই হবে কঠিন ও দীর্ঘ সময়ের। ভারতের তাঁবেদারি বাংলাদেশের জনগণ করে না এবং আগামীতেও করবে না।
সৈয়দপুর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন সদস্য জাবেদ আত্তারীর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন- সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নুর-ই-আলম সিদ্দিকী, বিএনপি সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা শাখার সভাপতি অধ্যক্ষ আলহাজ মো. আব্দুল গফুর সরকার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক মো. রেদোয়ান ইসলাম।
মন্তব্য করুন