স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ডেঙ্গু রোগী দিন দিন বাড়ছে। সেই জন্য স্যালাইনের এখন বিশেষ প্রয়োজন। দেশে যারা স্যালাইন তৈরি করেন তাদের বলেছি শতভাগ উৎপাদনে যাওয়ার জন্য। রোগীর সংখ্যা দশগুণ বেড়েছে, হঠাৎ করেই উৎপাদন ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব নয়। বর্তমানে প্রতিদিন আমাদের ৪০ হাজার ব্যাগ স্যালাইন লাগছে।
তিনি বলেন, সব কোম্পানি মিলেও এ উৎপাদন করতে পারে না। এর জন্য আমার বিশেষজ্ঞদের নিয়ে মিটিং করেছি। নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে প্রয়োজনে যাতে বিদেশ থেকেও ব্যক্তিগতভাবে স্যালাইন ব্যাগ আমদানি করতে পারে। তবে আগামী দুই মাসের জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে জানান।
শনিবার (১২ আগস্ট) দুপুরের দিকে মানিকগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু ইউনিট পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, সারা দেশে পাঁচ হাজার বেড রেডি রাখতে বলেছি। এখনো অনেক বেড খালি রয়েছে। সরকারি হাসপাতালে কোনো স্যালাইন (আইভী) সংকট নেই। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইনের চাহিদা বেড়েছে। সেই কারণে আমরা বাফার স্টক রাখতে চাই সরকারিভাবে। আমরা নিজেরাও রাখব ব্যক্তিগতভাবেও দিয়ে দিব, যারা আমদানি করতে চায় তারা এখনই করতে পারবেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার দায়িত্ব রয়েছে মশা নিধনে। তাদের খোলা জায়গা, ড্রেনে পানি জমে আছে সে সব জায়গাই রেগুলার স্প্রে করার জন্য বলেন। শুধু ডেঙ্গু দেখা দিলে স্প্রে করলে চলবে না সারা বছরই এই কার্যক্রম চলমান রাখতে হবে। তবেই মশা নিয়ন্ত্রণে আসবে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে।
মন্ত্রী বলেন, এখনো ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা অব্যাহত রয়েছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ৮০ হাজার ডেঙ্গু রোগী পাওয়া গেছে। এবছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন ৩৭৩ জন। এটা আমি মনে করি অনেক বেশি। ডেঙ্গু কমাতে হলে আমাদের মশা কমাতে হবে। এর জন্য সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাকে বেশি বেশি কাজ করতে হবে।
হাসপাতালে ডেঙ্গু ইউনিট পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন ও তাদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক রেহেনা আকতার, সিভিল সার্জন ডাক্তার মোয়াজ্জেম হোসেন খান চৌধুরী, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাক্তার মো. বাহাউদ্দিন, পৌর মেয়র রমজান আলী, মানিকগঞ্জ ডায়াবেটিক হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক সুলতানুল আজম খান আপেল, হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক এ কে এম রাসেল, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি আরশেদ আলী বিশ্বাস, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শিফাত কোরাইশি সুমন প্রমুখ।
মন্তব্য করুন