পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের অভাব ও খরার কারণে ফরিদপুরের খাল-বিলসহ নিচু জলাভূমিতে পর্যাপ্ত পানি নেই। এর ফলে পাট জাগ দিতে পারছেন না জেলার চাষিরা। এতে দুশ্চিন্তায় ভুগছেন পাটচাষিরা।
এদিকে পাটচাষিদের কথা চিন্তা করে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার গাজনা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. গোলাম কিবরিয়া।
ব্যক্তিগত অর্থায়নে উপজেলার গাজনা ইউনিয়নের কুমার নদের শাখা খালের শ্রিনাথপুর থেকে বেলেশ্বর মাঝি বাড়ি পর্যন্ত প্রায় চার কিলোমিটার খালে ১৮টি অগভীর নলকূপ দিয়ে একযোগে পানি দেওয়ার ব্যবস্থা করেন ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া।
শনিবার (৫ জুলাই) দুপুর ১২টায় শ্রীনাথপুর মাঠে বটতলায় এ কাজের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী।
এ সময় উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. আলভীর রহমান, সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা পবিত্র কুমার দাস, বিআরডিবি কর্মকর্তা সুব্রত কুমার দত্ত, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. আলীম মোল্যা, ইউপি উদ্যোক্তা অমিত কুমার ও স্থানীয় চাষিরা উপস্থিত ছিলেন।
গাজনা ইউপির চেয়ারম্যান মো. গোলাম কিবরিয়ার কৃষকবান্ধব উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় পাটচাষিরা।
চাষিদের আশা, এতে তাদের পাটের উৎপাদন খরচ বাড়বে না। ফলে লাভবান হবেন তারা।
চাষিরা জানান, পাট কাটার সময় হয়ে গেলেও পানির অভাবে তারা পাট কাটতে পারছিলেন না। সময় মতো পাট কাটতে না পারলে পাট শুকিয়ে উৎপাদনে প্রভাব পড়বে। এ সময়ে কৃষকদের পাশে দাঁড়ানোয় চেয়ারম্যানকে ধন্যবাদ জানান তারা।
গাজনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম কিবরিয়া জানান, এর আগে গত মঙ্গলবারও তিনি চন্দনা নদীর শাখা খালের মান্দার তলার ব্রিজ হতে চিত্রার ব্রিজ পর্যন্ত তিন কিলোমিটার খালে পানি সরবরাহ করেন। জনপ্রতিনিধি হিসেবে কৃষকদের দুর্দশার কথা চিন্তা করে তাদের পাশে দাঁড়াতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
গোলাম কিবরিয়া আরও জানান, এই খালে পানি সরবরাহের কারণে উভয় প্রান্তের সাত শতাধিক পাটচাষি উপকৃত হবেন।
মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আশিকুর রহমান চৌধুরী জানান, পর্যাপ্ত পানির অভাবে এ উপজেলার কৃষকরা পাট পচানো নিয়ে সমস্যায় রয়েছেন। অনেকে আবার কাদাযুক্ত পানিতে অধিক পরিমাণ পাট জাগ দেওয়ায় রংও নষ্ট হয়। এতে তারা ন্যায্যমূল্য পাওয়া থেকেও বঞ্চিত হন। পাটচাষিদের এমন দুঃসময়ে গাজনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. গোলাম কিবরিয়ার উদ্যোগ চাষিদের আশার আলো দেখাচ্ছে।
তিনি বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানের এ উদ্যোগ মডেল হতে পারে।
উল্লেখ্য, এ বছর ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার ৮ হাজার ৮৬০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।
মন্তব্য করুন