জামালপুরে বিশেষ বরাদ্দের ৫ হাজার টন সার কালোবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে ডিলার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। বিশেষ বরাদ্দের ইউরিয়া ও নন- ইউরিয়া সার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কালোবাজারে বিক্রির ঘটনায় সাধারণ ডিলারদের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, চলতি বছরে মার্চে জামালপুর জেলার ডিলারদের চাহিদা অনুযায়ী ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার বরাদ্দ দেওয়া হয় ২১৮ জন ডিলারের মাঝে। চাহিদা মোতাবেক এসব সার সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা হয়। জেলায় কোনো চাহিদা না থাকলেও চলতি বছরের মার্চ মাসের জন্য জামালপুর জেলায় বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয় ৫ হাজার টন ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার।
আরও পড়ুন : বিশ্ব খাদ্য সংকট নিরসনে প্রধানমন্ত্রীর পাঁচ প্রস্তাব ইতিবাচক
তালিকাভুক্ত ডিলারদের মাঝে বিশেষ বরাদ্দের ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সার বণ্টনের কথা থাকলেও বণ্টন করা হয় সিন্ডিকেট প্রধান নির্ধারিত ৪৩ জন ডিলারের মাঝে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তা, সিন্ডিকেট প্রধান এবং প্রভাবশালী সার ডিলার মো. আলাল উদ্দিন ও মো. নজরুল ইসলামের যোগসাজশে এসব সার কালোবাজারে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই-আগস্ট মাসের জন্যও জামালপুর জেলায় ২ হাজার ৫০০ টন সার বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একই সিন্ডিকেট পূর্বের ন্যায় এবারও এসব সার তাদের নির্দিষ্ট ডিলারের নামে বরাদ্দ নেওয়ার পাঁয়তারা করছে।
জামালপুর সদরের বারুয়ামারী এলাকার সার ডিলার হিরন ট্রেডার্সের মালিক হিরন শেখ বলেন, ২০১৩ সালে তিনি সারের ডিলার হয়েছেন। ডিলার হওয়ার পরপরই তিনি একবার বিশেষ বরাদ্দের সার পেয়েছিলেন। এরপর আর কোনোদিনই বিশেষ বরাদ্দ সার পাননি। শুধু সিন্ডিকেট সদস্যরাই এসব সার বরাদ্দ পান। এসব সার কোথায় যায় সেটাও কেউ জানে না।
অভিযুক্ত সার ডিলার মো. নজরুল ইসলাম বলেন, বিশেষ বরাদ্দের সার বণ্টন করেছেন ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ চৌধুরী। কোনো প্রশ্ন থাকলে ফারুক আহমেদ চৌধুরীকে জিজ্ঞেস করেন। আমরা কিছু না।
সার ডিলার মো. আলাল উদ্দিন বলেন, বিশেষ বরাদ্দের সার সব ডিলাররা বরাদ্দ পান না। বিশেষ ডিলারের জন্যই বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়।
ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন জামালপুর জেলা শাখার সভাপতি মোস্তাক আহমেদের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে তিনি ঢাকায় চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ব্যাপারে সাধারণ সম্পাদক ফারুক আহামেদ চৌধুরী ভালো বলতে পারবেন।
এ ব্যাপারে কথা বলতে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশন জামালপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ফারুক আহমেদ চৌধুরীর মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তা বন্ধ পাওয়া গেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ জাকিয়া সুলতানা সাংবাদিকদের বলেন, সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর বিশেষ বরাদ্দের সার বরাদ্দ দেওয়া হয়।
জেলা প্রশাসক মো. ইমরান আহমেদ বলেন, আমি গত সপ্তাহে জামালপুরে জয়েন করেছি। কৃষি অফিসারের কাছে জেনে এ ব্যাপারে জানাবেন বলেন তিনি।
মন্তব্য করুন