বরুড়া (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ০৯:১৮ পিএম
আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১০:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

হাঁটু পানি আর সাপের আতঙ্কের মধ্যেও হচ্ছে প্রাথমিকের পরীক্ষা

বন্যার পানিতে ভিজে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা
বন্যার পানিতে ভিজে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থীরা। ছবি : কালবেলা

কুমিল্লার বরুড়ায় হাঁটু সমান পানি ভেঙে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। স্কুলমাঠ, রাস্তাঘাট তলিয়ে আছে বন্যার পানির নিচে। এ দুর্ভোগের মধ্যেও চলছে বরুড়ার সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষা।

রোববার (৮ সেপ্টেম্বর) উপজেলার বন্যাকবলিত এলাকাগুলো ঘুরে দেখা যায় বরুড়ার উত্তর অঞ্চল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও এখনো রাস্তাঘাট পানির নিচে দক্ষিণ অঞ্চলগুলোর।

এই অঞ্চলের বন্যার পানি খুব ধীরে ধীরে নিষ্কাশিত হচ্ছে, যা মানুষের জন্য আরও কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যেখানে স্কুলের মাঠ, স্কুলের যাওয়া-আসার পথঘাট এখনও পানির নিচে সেখানে পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাচ্চাদের অভিভাবকরা।

জানা যায়, বরুড়ার দক্ষিণ অঞ্চল লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের ৮২নং চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চিতসী রোড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়, নলুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, নোয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ওই ইউনিয়নের আরও অনেকগুলো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্কুল মাঠে এখনও হাঁটু সমান পানি। এই সব স্কুলের শিক্ষকরা স্কুলে যাতায়াত করেন কলা গাছের ভেলা বানিয়ে। এমন অবস্থায় পরীক্ষার্থীরা কীভাবে আসবে পরীক্ষা দিতে এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন শিক্ষকরাও।

চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন বলেন, আমাদের স্কুল মাঠে এখনও পানি আছে। আমাদের অফিস কক্ষে পানি, ক্লাস রুমে পানি। তার মধ্যেই ২য় প্রান্তিক মূল্যায়ন পরীক্ষার রুটিন প্রকাশ করা হয়েছে। আজ প্রথম পরীক্ষা ছিল। অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিজ দায়িত্বে স্কুলে নিয়ে এসেছে। বেশিরভাগ পরীক্ষার্থী আসতে পারেনি।

চিতসী রোড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কামরুজ্জামান ভুঁইয়া বলেন, আমাদের স্কুল মাঠে, স্কুলে আসার পথে এখনও অনেক পানি। এই গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হওয়াতে আমাদের স্কুলকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। এখনও অনেক পরিবার এখানে আছে। এই অবস্থায় পরীক্ষার রুটিন প্রকাশিত হওয়াতে আমরা দ্রুত স্কুলের পাশেই মাদ্রাসায় পরীক্ষা নেওয়ার ব্যবস্থা করেছি। আমাদের স্কুল শ্রেণিকক্ষে এখনও পরীক্ষা নেওয়ার মতো অবস্থা তৈরি হয়নি।

ফারজানা বেগম নামের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক জানান, পরীক্ষার কথা শুনে মেয়েকে স্কুলে নিয়ে আসি। স্কুলের পথেই আমার হাঁটু সমান পানি, মেয়েরতো পুরো শরীর ভিজে গেছে। এই অবস্থায় কীভাবে স্যারেরা পরীক্ষা নেবে আমি বুঝি না।

এই বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা তরীকুল ইসলাম বলেন, এখনও কোনো ছুটির বিষয়ে ডিক্লারেশন দেয়নি সরকার। শিক্ষকরা বলেছে যেভাবেই পারে পরীক্ষা নেবে। পরীক্ষা নিতে পারবে না কেউ আমাকে এমন কিছু বলেনি। তারপরও আমি আমাদের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্যারের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব।

এই বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সফিউল আলম জানান, প্রান্তিক মূল্যায়নের জন্য আমাদের প্রেসার ক্রিয়েট নাই। যে স্কুলে পানি আছে, সে স্কুলে পরীক্ষা নেওয়ার কী দরকার। এটা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দেখার কথা। আমি দেখছি বিষয়টা।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ড. ইউনূসকে যেসব কথা বললেন মোদি

বীর মুক্তিযোদ্ধা কানুর বাড়িতে হামলা

ঈদে দাওয়াত দিয়ে এনে জামাইকে গণধোলাই

সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যে এবার মুখ খুললেন মোদি

হাওরের গাছে ঝুলছিল সবজি বিক্রেতার লাশ 

‘আমার সব শেষ হয়ে গেল’

আট সন্তান থাকতেও ৯০ বছরের বৃদ্ধার জায়গা খোলা আকাশের নিচে

চুরি করতে গিয়ে পোশাক ও ছবি ফেলে গেল চোর

মা-বাবা, দুই বোনের পর চলে গেলেন প্রেমাও

ট্রাম্পের শুল্কারোপ / শত বছরের বিশ্ব বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

১০

ড. ইউনূসের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক 

১১

কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন

১২

বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থা নিয়ে প্রেস সচিবের পোস্ট

১৩

আগে ছিলেন আ.লীগ নেতা, বিএনপিতে পেলেন সদস্যসচিবের পদ

১৪

জনবসতিহীন পেঙ্গুইন দ্বীপে ট্রাম্পের শুল্কারোপ

১৫

মোদিকে ছবি উপহার দিলেন ড. ইউনূস

১৬

থাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক

১৭

হাসিনার প্রত্যর্পণসহ যেসব বিষয় আলোচনা হলো ড. ইউনূস-মোদির

১৮

আসিয়ান সদস্যপদের জন্য থাই বিশিষ্টজনদের সমর্থন চাইলেন ড. ইউনূস

১৯

দুদিনেও জ্ঞান ফেরেনি প্রেমার, স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে আরাধ্যকে

২০
X