জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমতিবিহীন সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বরিশাল সিটি করপোরেশনে টাউন প্লানার এবং আর্কিটেক্টস পদে চুক্তিভিত্তিক দুই কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছের লোক হওয়ায় সদ্য সাবেক মেয়র আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সেরনিয়াবাতের সময়ে ওই দুই কর্মকর্তাকে অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বিসিসির টাউন প্লানার পদে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। সেই পদের বিপরীতে কোনোরকম নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই তিন মাসের মেয়াদে সৈয়দা তাবাচ্ছুম ইসলাম নামের এক নারী কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া ছাড়াই তদবিরের কারণে আর্কিটেক্ট পদে ৫০ হাজার টাকা বেতনে এক বছর মেয়াদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে গোপালগঞ্জের বাসিন্দা সাইফুল ইসলাম নুশানকে।
সূত্রে আরও জানা গেছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও সম্পূর্ণ রহস্যজনকভাবে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার অবৈধভাবে নিয়োগ করা চুক্তিভিত্তিক ওই দুই কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ আবারও বৃদ্ধি করেছেন। ফলে বিসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযোগের ব্যাপারে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া দুই কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো কথা বলতে রাজি হননি। তবে উভয়েই সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলার অনুরোধ করেন।
বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাইল হোসেন কালবেলাকে বলেন, সিটি করপোরেশনের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষমতা নেই। এটা নিয়োগ দিয়ে থাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। তবে জনপ্রশাসন থেকে ওই দুই কর্মকর্তার নিয়োগ দেওয়া হয়নি স্বীকার করে তিনি বলেন, লোকবল সংকটের কারণে সিটি করপোরেশন থেকে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, উভয় কর্মকর্তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তাদের নিয়োগের মেয়াদ আবার বাড়ানো হয়েছে। তবে চুক্তিভিত্তিক অবৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের মেয়াদ বৃদ্ধির কাগজপত্র দেখতে চাইলে প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তথ্য অধিকার আইনে ফরমপূরণ করে আবেদন করার পরামর্শ দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ঘুরেফিরে দীর্ঘদিন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বরিশাল সিটি করপোরেশনে কর্মরত থাকায় সে তার নিজের ইচ্ছেমতো করপোরেশন পরিচালনা করছেন।
মন্তব্য করুন