নরসিংদীর মনোহরদীতে পুনরায় জীবিত হওয়ার আশায় গত ৬ দিন ধরে লাশ রেখে দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলার পর নিহতের অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোববার (১১ জুন) সন্ধ্যায় নিহতের লাশ দাফনের পরপরই স্বামী মোক্তার উদ্দিন তালুকদারকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় মনোহরদী থানা পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, মনোহরদী পৌরসভার বাজারের পাশেই নিজেদের বাড়িতে বসবাস করতেন অবসরপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষক মোক্তার উদ্দিন তালুকদার (৬৮), তার স্ত্রী নাজমা বেগম (৫৫), মেয়ে মাহবুবা তালুকদার (৪০) রোকসানা তালুকদার (৩৪), আফরোজা তালুকদার (২৮) ও নিষাদ তালুকদার (২৫)। তারা সবাই আটরশি পীরের ভক্ত ছিলেন। তারা কেউই বাসা থেকে বের হতেন না। নিজেরাই বাড়িতে অবরুদ্ধ হয়ে থাকতেন। এসব নিয়ে প্রতিবেশীরা তাদের জিজ্ঞেস করলেও কোনো সদুত্তর দিতেন না। তারা প্রতিদিন রাত ৩টা থেকে ভোর পর্যন্ত জিকির করতেন।
নিহত শামীমা সুলতানা নাজমা তার পরিবারের সদস্যদের বলে গিয়েছিলেন তিনি যদি কোনো সময় মারা যায় তাহলে তার লাশ রেখে যেন অপেক্ষা করা হয়। তিনি তিন থেকে চার দিন পর পুনরায় জীবিত হবেন। সোমবার (৫ জুন) শামীমা সুলতানা নাজমা মারা গেলে তার পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি কাউকেই জানায়নি।
তারা সবাই মায়ের জীবিত হওয়ার আশায় লাশ খাটের তলে রেখে অপেক্ষা করতে থাকেন। এদিকে প্রতিবেশীরা পচা গন্ধ পেতে থাকে। এমনকি তারা ভাবে হয়তো ইঁদুর মরে গন্ধ ছড়িয়েছে। কিন্তু ধীরে ধীরে গন্ধ তীব্র হওয়ায় পাশাপাশি তাদের রহস্যজনক চলাচলের কারণে পুলিশকে খবর দেয় প্রতিবেশীরা। পরে পুলিশ এসে তাদের ডাকাডাকি করলেও কোনো সাড়া দেয়নি। এক সময় ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে গেলে দেখা যায়, তারা সবাই ঘরেই অবস্থান করছে। এ সময় খাটের নিচ থেকে নাজমার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আর পরিবারের সদস্যদের থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে সেখান থেকে তাদের মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
মনোহরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার খন্দকার আনিসুর রহমান বলেন, থানা থেকে তাদের রাতে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছিল। তাদের শারীরিকভাবে অন্য কোনো সমস্যা পাওয়া যায়নি।
মনোহরদী থানার ওসি ফরিদ উদ্দিন বলেন, পরিবারটি এক পীরের মুরিদ ছিলেন। তারা জিকিররত অবস্থায় নাজমার মৃত্যু হয়েছে বলে আমাদের জানিয়েছে। পুনরায় জীবিত হওয়ার ধারণায় তারা লাশ খাটের নিচে রেখে দিয়েছিল।
আমরা নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া গেলে মৃত্যুরহস্য নিয়ে নতুন করে কিছু বলা যাবে না। তবে লাশের প্রতি অবমাননার দায়ে নিহতের বোন রুমানা সুলতানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করলে স্বামী মোক্তার হোসেন তালুকদারকে গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া পরিবারের অপর সদস্যদের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে।
মন্তব্য করুন