লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে বসতঘরে বেঁধে আগুন লাগিয়ে দেন জাবেদ হোসেন (২৮) নামে এক মাদকাসক্ত যুবক। রোববার (১ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে রায়পুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের হাওলাদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পরে চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা গিয়ে মা ওহিদা বেগমকে (৫৮) উদ্ধার করেন। তবে আগুনে আসবাবপত্রসহ পুরো ঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক আছেন।
এলাকাবাসী জানায়, মাদকের টাকার জন্য মায়ের সঙ্গে প্রায়ই ঝগড়া করত জাবেদ। ঘরের আসবাবপত্রও ভাঙচুর করত। ওহিদার সংসারে ৬ মেয়ে ও একমাত্র ছেলে জাবেদ। গত সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে জাবেদের অত্যাচার সহ্য করে আসছে পরিবারটি।
জানা যায়, শনিবার (৩১ আগস্ট) রাতে মায়ের সঙ্গে মাদকের টাকার জন্য ঝগড়া করে জাবেদ। একপর্যায়ে পরনে থাকা জামা দিয়ে মায়ের গলা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা চালায়। পরে মাকে বসতঘরে হাত-পা বেঁধে আগুন লাগিয়ে দিয়ে পালিয়ে যায় সে। এ সময় প্রতিবেশীরা ওহিদা বেগমকে উদ্ধার করে রায়পুর ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন। তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুনে বসতঘরের সব আসবাবপত্র পুড়ে যায়।
জাবেদের বড় বোন কামরুন নাহার জানান, ‘আমার ভাই কয়েক বছর ধরে মাদকাসক্ত। সে ঘরে আগুন লাগিয়েছে। আমরা তার বিচার চাই। মায়ের কাছে ৫০ হাজার টাকা চেয়েছে। আমাদের প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।’
তফুরা বেগম নামে এক প্রতিবেশী জানান, ‘রাতে মায়ের সঙ্গে জাবেদের তুমুল ঝগড়া হয়েছে। একপর্যায়ে সে বসতঘরে আগুন লাগায়। হঠাৎ চারদিক আলোকিত হয়ে যাওয়ায় আমরা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করি।’
মা ওহিদা বেগম বলেন, ‘স্বামীর শেষ সম্বল শেষ করে দিয়েছে আমার মাদকাসক্ত ছেলে। প্রতিদিন টাকার জন্য মারধর করে। মেয়েদের বাড়িতে আসতে দেয় না। আমার একমাত্র ছেলে। সে যেন সুস্থ হয়। এটাই আমার চাওয়া। তবুও আমি ছেলের বিচার চাই।’
রোববার সন্ধ্যা ৭টার সময় ওহিদা বেগম বাদী হয়ে রায়পুর থানায় লিখিত অভিযোগ (জিডি) করেন।
এ বিষয়ে রায়পুর থানার ওসি মাহবুবুর রহমান বলেন, লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্তব্য করুন