ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার ছোট ফেনী নদীর ওপর নির্মিত সাহেবের ঘাট সেতুর সংযোগ সড়কে তৈরি হয়েছে গর্ত। বন্যার অতিরিক্ত পানির চাপে এবং সেতুসংলগ্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করায় সেতুর সংযোগ সড়কের মাটি নদীতে ধসে গিয়ে বিশাল গর্ত তৈরি হয়েছে।
ফলে বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে সোনাগাজী- কোম্পানীগঞ্জ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গেছে, সোনাগাজী উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের সাহেবের ঘাট ও নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের সংযোগস্থল হিসেবে ছোট ফেনী নদী সেতুটি নির্মাণ করা হয়। চট্টগ্রামগামী নোয়াখালী ও লক্ষ্মীপুরের যানবাহনগুলো এই সেতুর ওপর দিয়ে চলাচল করত।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের জুন মাসে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। ২০১৯ সালের ১ অক্টোবর সেতুটি উদ্বোধন করা হয়েছে। সেতুটিতে ১১টি স্প্যান ও ৫৫টি গার্ডার রয়েছে। ৪৭৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০.২৫ মিটার প্রস্থের এই সেতুর নির্মাণব্যয় ধরা হয়েছে ৫৩ কোটি টাকা। আর নদীর দুই পাশে ব্লক বসানোসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজের জন্য আরও ২১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে এই সেতুটি নির্মাণ করা হয়।
সেতুটি নির্মাণের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান রানা বিল্ডার্স। এ ছাড়া সেতুটির দুই পাশে নদীভাঙন রোধে ব্লক স্থাপন করাসহ অন্যান্য আনুষঙ্গিক কাজ করার জন্য মেসার্স সালেহ আহম্মদ টেড্রাস ও বিডি এন্টারপ্রাইজকে নিয়োগ করা হয়।
শনিবার (৩১ আগস্ট) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর পশ্চিম অংশে সংযোগ সড়কের মাঝখানে তৈরি হয়েছে বিশাল গর্ত। স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বালুভর্তি বস্তা ফেলেও সংযোগ সড়ক রক্ষা করতে পারেনি। একইসঙ্গে সেতুর পশ্চিম অংশের দুপাশের মাটি ও ব্লক সরে গিয়ে বড় গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় ভাঙনের হুমকিতে পড়েছে সেতু। সেতুর একাধিক স্থানে ফাটলও দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যার পানির চাপে পশ্চিম অংশে সেতুর নিচ থেকে দুই পাশের মাটি ও ব্লক সরে গেছে। এরপর সেতুর সংযোগ সড়কেও ভাঙন দেখা দিতে শুরু করে। এ অবস্থায় স্থানীয় লোকজন স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে বালুভর্তি বস্তা দিয়ে ভাঙন রোধের চেষ্টা করেন। খবর পেয়ে নোয়াখালী সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারাও তাদের সঙ্গে যোগ দেন। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সঙ্গে সোনাগাজী উপজেলার সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে পড়ায় দুর্ভোগে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় দোকানি ইসরাফিল মিয়া বলেন, সেতুর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু তোলার কারণে বন্যার পানির চাপে সেতুতে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। বালু উত্তোলন বন্ধ করার জোর দাবি জানাচ্ছি। একইসঙ্গে বালু বিক্রি করে অর্জিত টাকা সরকারি কোষাগারে জমা করার জোর দাবি জানাচ্ছি।
সোনাগাজী উপজেলার চরদরবেশ ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ বলেন, সেতুটি নির্মাণের ফলে দুই উপজেলার মানুষের চলাচলে অনেক সুবিধা হয়েছে। কিন্তু সেতুটি নির্মাণে দুর্নীতি, সেতু সংলগ্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে সেতুটি হুমকির মুখে পড়েছে। দ্রুত সেতুটিকে মেরামত করে যান চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানান তিনি।
নোয়াখালী সড়ক ও জনপদ বিভাগের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী সৌম্য তালুকদার বলেন, বন্যার পানির চাপে সাহেবের ঘাট সেতুর সংযোগ সড়ক ভেঙে পড়ার খবর পেয়ে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় লোকজন নিয়ে ভাঙন রোধে বালুর বস্তা ফেলেছেন। কিন্তু ভাঙন আরও তীব্র হওয়ায় সেতুটিও হুমকিতে রয়েছে। এতে করে সেতুর ওপর দিয়ে আপাতত যানচলাচল বন্ধ রয়েছে। ঢাকা থেকে সওজের উচ্চপর্যায়ের একটি বিশেষজ্ঞ দল এসে সেতু এলাকা পরিদর্শন করে মতামত দেবেন। তাদের পরামর্শ মতে সেতুর সংযোগ সড়কসহ যে সব জায়গায় ভাঙন ও সমস্যা দেখা দিয়েছে সেগুলো সঠিক নিয়মে সংস্কার করে যান চলাচল ও মানুষের যাতায়ত স্বাভাবিক করে দেওয়া হবে।
ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাশেদ শাহারিয়ার বলেন, আমরা ছোট ফেনী নদী থেকে কাউকে বালু উত্তোলনের অনুমতি দিইনি। বালু উত্তোলনের কারণে মাটি ধস হয়। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন