মাসখানেক আগে হারিয়ে যাওয়া কিশোর নাতিকে খুঁজে পেতে ছবি বুকে নিয়ে পথে হন্যে হয়ে ঘুরছেন দাদি। আর খুঁজে না পেয়ে হয়রান হচ্ছেন কেঁদে কেঁদে।
নাতির ছবি বুকে নিয়ে ঘুরতে থাকা বৃদ্ধ দাদি তোতা বিবিকে দেখা যায়, গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বিভিন্ন পথেঘাটে।
জানা যায়, মানসিকভাবে অসুস্থ নিখোঁজ ওই কিশোরের নাম সৈকত মিয়া। সুন্দরগঞ্জের দহবন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ বামানজল গ্রামের ডোগাপাড়ার রাজা মিয়া ও শান্তনা দম্পতির একমাত্র সন্তান সে। বয়স ১৪ বছর। গত ২৪ জুলাই দুপরের দিকে গোসল করে খাবার খায় সৈকত। পরে কাউকে না বলে লাল টিশার্ট (গেঞ্জি) ও চেক লুঙ্গি পরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে সে। পথে মীরগঞ্জে রাস্তায় সৈকতকে দেখে বাড়িতে খবর দেন এক স্থানীয়।
তাৎক্ষণিকভাবে সৈকতকে খুঁজতে রওনা দেন তার বাবা রাজা ও চাচা মোজা মিয়া। কিন্তু সৈকতকে খুঁজে পাননি তারা। পরে তিন দিন ধরে সুন্দরগঞ্জসহ গাইবান্ধা জেলার বিভিন্ন জায়গায় ওই কিশোরের খোঁজে মাইকিং করেন তার পরিবার। এখনো খুঁজে ফিরছেন হন্যে হয়ে। বসে নেই মানসিক রোগে ভোগা সৈকতের দাদি তোতা বিবিও। নাতিকে খুঁজে পেতে তার ছবি বুকে নিয়ে পথে পথে ঘুরছেন তিনিও।
তোতা বিবি বলেন, সৈকত আমার কাছে থাকে। আর ওর বাবা, মা ঢাকায় থাকে। সৈকতের বাবা ভ্যান চালায় আর মা গার্মেন্টসে চাকরি করে। সৈকত হারিয়ে যাওয়ার সময় ওর বাবা, মা বাড়িতেই ছিল। কিন্তু নাতিকে তো মানুষ করছি আমি। ওকে ছাড়া যে ঘুম আসে না, বাবা। তোমরা আমার নাতিকে খুঁজে দাও।
সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড মেম্বার মাইদুল ইসলাম বলেন, সৈকত হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমি জানি। সে মানসিক প্রতিবন্ধী।
মন্তব্য করুন