বরগুনা-বেতাগী-বাকেরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের বেতাগী অংশের ঝোপখালী সেতুর অ্যাপ্রোচ ভেঙে ধসে পড়েছে। ফলে এ রুটে যাতায়াতকারী লোকাল ও দূরপাল্লার পরিবহন চালক ও যাত্রীরা আতঙ্কে পারাপার হচ্ছেন।
এতে যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা। তাই বড় ধরনের বিপদ এড়ানোর জন্য আগেভাগেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, ২০০০ সালের ২৭ ডিসেম্বর ৫২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্য বাকেরগঞ্জ-বেতাগী-বরগুনা আঞ্চলিক সড়ক নির্মাণ করা হয়। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের বেতাগী সদর ইউনিয়নের ঝোপখালী অংশে বেড়েরধন নদীর ওপর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে পুরোনো লোহার ব্রিজ ভেঙে ওই নদীর ওপর নতুন একটি গার্ডার সেতু নির্মাণ করা হয়। নির্মাণের দুই বছর পর ওই সেতুর দুই পাশের অ্যাপ্রোচ নির্মাণ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বর্তমানে ঝোপখালী গার্ডার সেতুর দক্ষিণ পাশের অ্যাপ্রোচ দেবে ও ধসে পড়েছে। এতে পারাপারে যাত্রীরা ভয়ে থাকেন। দুর্ভোগে রয়েছে এ রুটে নিয়মিত চলাচলকারী দূরপাল্লার ৩০ হাজার যাত্রী। এ রুটে ছোট ছোট যানবাহন সাইকেল, প্যাডেল রিকশা, অটোরিকশা, ভ্যান, মোটরবাইক, পিকআপ, প্রাইভেট কার, সিএনজির পাশাপাশি মাহিন্দ্র, নছিমন, দূরপাল্লার ট্রাক ও বাস মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে।
এ রুটের যাত্রী বিবিচিনি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক আবুল বাসার জানান, বরগুনা-বেতাগী-বাকেরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের এ রুটে বর্তমানে লোকাল ও দূরপাল্লার বাস-ট্রাক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও যে কোনো সময় সেতুর ঢাল ভেঙে যাত্রীসহ খালে পড়ে আমতলীর মতো যাত্রীসাধারণ বড় ধরনের দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। তাই বড় ধরনের বিপদ এড়ানোর জন্য আগেভাগেই দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া একান্ত জরুরি।
ঝোপখালী গ্রামের বাসিন্দা মো. মনির হোসেন বলেন, সেতুর দক্ষিণ পাশের ঢালের অংশ দিয়ে ভারী যানবাহনের লোকেরা তাদের জীবন হাতে নিয়ে পারাপার হচ্ছে এবং চলাচলের ক্ষেত্রে দিন দিন ঝুঁকির মাত্রা আরও বেড়েই চলছে। বড় ধরনের দুর্ঘটনার আগেই সংশ্লিষ্টদের নজর দেওয়া খুবই জরুরি হয়ে পড়েছে।
বেতাগী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান খ ম ফাহরিয়া সংগ্রাম আমিনুল বলেন, বর্তমানে ঝোপখালী সেতুর উভয় পাশের অ্যাপ্রোচই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত প্রয়োজনী পদক্ষেপ নেওয়া সবার দাবি।
বেতাগী উপজেলা প্রকৌশলী শেখ তৌফিক আজিজ বলেন, আমি সেতুর দেবে ও ভেঙে যাওয়া অ্যাপ্রোচের অংশ সরেজমিন পরিদর্শন করেছি। ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য বরগুনা নির্বাহী প্রকৌশলীকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারুক আহমদ বলেন, বিষয়টি আরও আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। অ্যাপ্রোচ ধসের কারণে এ রুটের মানুষের যাতায়াত যাতে বন্ধ না হয় সেজন্য সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আমরা আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছি।
মন্তব্য করুন