নকলা (শেরপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৫ আগস্ট ২০২৪, ০৯:৪১ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

ছাত্র আন্দোলনে নিহত আজিজ, খোঁজ রাখেনি কেউ

নিহত আব্দুল আজিজ । ছবি : কালবেলা
নিহত আব্দুল আজিজ । ছবি : কালবেলা

কিছুদিন আগে নতুন একটা ঘর দিয়েছে, গত ১ জুলাই হয়েছে বিয়ের কাবিন! এই আগস্ট মাসে বেতন ও ছুটি নিয়ে বউ তুলবেন নতুন বাড়িতে। তবে ছুটি মিলেছে পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেটে নিহত এই নিষ্ঠুর পৃথিবী থেকে।

বলছিলাম শেরপুরের নকলা উপজেলার ৮নং চরঅষ্টধর ইউনিয়নের মৃত মোজাম্মেলের মেজো ছেলে গার্মেন্টস কর্মী আব্দুল আজিজের (২৮) কথা। গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের এক দফা আন্দোলনের সময় নিজ মোবাইল ফোনে আন্দোলনের ভিডিও লাইভ দেখানোর সময় পুলিশের ছোড়া রাবার বুলেট এসে লাগে চোখ-মুখসহ সারা গায়ে। মুহূর্তে আজিজ মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

এরপর সহকর্মী নাজিমের সহযোগিতায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ দিন চিকিৎসার পর ৭ আগস্ট আজিজের মৃত্যু হয়। পরের দিন ৮ আগস্ট আজিজের জানাজা শেষে পারিবারিক গোরস্তানে লাশ দাফন করা হয়। পরিবারের একমাত্র উপার্জন করা ছেলেকে হারিয়ে শোকে কাতর পরিবারের মা, ভাইসহ এক মাস আগে বিয়ে করা নববধূ হাসনা বেগম। নিহত আজিজের ছোট ভাই এইচএসসি পরীক্ষার্থী আ. মান্নান জানান, আমার আর মনে হয় লেখাপড়া হবে না। কে দেবে আমার লেখাপড়ার খরচ?

নিহত আব্দুল আজিজ গাজীপুর মহানগরের বাসন থানায় একটি টেক্সইরোপ বিডি লিমিটেড নামে গার্মেন্টস কারখানায় জুনিয়র রিব কাটারম্যান হিসেবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আজ থেকে ২১ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর অনেক কষ্ট করে সংসারের হাল ধরেছিলেন এই আজিজ। স্থানীয় পল্লি চিকিৎসক গোলাম সারোয়ার কালবেলাকে বলেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উচিত আ. আজিজের পরিবারের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া।

নিহত আব্দুল আজিজের শ্বশুর মোজামিয়া জানান, এক মাস আগে মেয়ের কাবিন হয় আজিজের সঙ্গে, গত ৫ আগস্ট পুলিশের ছোড়া গুলিতে আহত হয়ে ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করে। আমার মেয়ের ভবিষ্যৎ এখন কী হবে?

সাবেক চেয়ারম্যান মো. আহসান হাফিজ খান কালবেলাকে বলেন, আমি পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম আব্দুল আজিজের মৃত্যুর ঘটনার সঠিক বিচার দাবি এবং পরিবারের প্রতি প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ড. ইউনূসকে যেসব কথা বললেন মোদি

বীর মুক্তিযোদ্ধা কানুর বাড়িতে হামলা

ঈদে দাওয়াত দিয়ে এনে জামাইকে গণধোলাই

সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যে এবার মুখ খুললেন মোদি

হাওরের গাছে ঝুলছিল সবজি বিক্রেতার লাশ 

‘আমার সব শেষ হয়ে গেল’

আট সন্তান থাকতেও ৯০ বছরের বৃদ্ধার জায়গা খোলা আকাশের নিচে

চুরি করতে গিয়ে পোশাক ও ছবি ফেলে গেল চোর

মা-বাবা, দুই বোনের পর চলে গেলেন প্রেমাও

ট্রাম্পের শুল্কারোপ / শত বছরের বিশ্ব বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

১০

ড. ইউনূসের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক 

১১

কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন

১২

বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থা নিয়ে প্রেস সচিবের পোস্ট

১৩

আগে ছিলেন আ.লীগ নেতা, বিএনপিতে পেলেন সদস্যসচিবের পদ

১৪

জনবসতিহীন পেঙ্গুইন দ্বীপে ট্রাম্পের শুল্কারোপ

১৫

মোদিকে ছবি উপহার দিলেন ড. ইউনূস

১৬

থাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক

১৭

হাসিনার প্রত্যর্পণসহ যেসব বিষয় আলোচনা হলো ড. ইউনূস-মোদির

১৮

আসিয়ান সদস্যপদের জন্য থাই বিশিষ্টজনদের সমর্থন চাইলেন ড. ইউনূস

১৯

দুদিনেও জ্ঞান ফেরেনি প্রেমার, স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে আরাধ্যকে

২০
X