লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০২:০৫ পিএম
আপডেট : ২৩ আগস্ট ২০২৪, ০২:১৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

লক্ষাধিক মানুষের চুলায় জ্বলেনি আগুন

পানিবন্দি লক্ষ্মীপুরের লাখ লাখ মানুষ। ছবি : কালবেলা
পানিবন্দি লক্ষ্মীপুরের লাখ লাখ মানুষ। ছবি : কালবেলা

ভারি বর্ষণে লক্ষ্মীপুরের সর্বত্র পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। টানা বৃষ্টির কারণে খাল-বিল-ফসলি ক্ষেত ডুবে গেছে। কোথাও পানি সরছে না। এতে মানুষের বসতবাড়িও ডুবে আছে পানিতে। দখলের কারণে প্রায় শুকনো ভুলুয়া নদীতে এখন জলাবদ্ধতার পানি থৈ থৈ করছে।

এ জলাবদ্ধতায় জেলার মেঘনা উপকূলীয় কমলনগর ও রামগতি উপজেলার পূর্বাঞ্চলে লক্ষাধিক মানুষ ২০-২২ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে পার্শ্ববর্তী নোয়াখালী জেলার চরমটুয়া ও আন্ডারচর ইউনিয়নের বাসিন্দারাও।

সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ, কমলনগর উপজেলার চরকাদিরা ইউনিয়নের চরঠিকা গ্রাম (স্মার্ট ভিলেজ), রামগতি উপজেলার চরবাদাম ও চরপোড়া গাছা ইউনিয়ন ঘুরে পানিবন্দি বাসিন্দাদের দুর্দশার চিত্র দেখা যায়। তবে পানিবন্দি এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধ দখলদারদের কাছ থেকে খালবিল মুক্তকরণসহ অবৈধ বাঁধ অপসারণ করলেই জলাবদ্ধতা রোধ হবে। এর জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জোরালো পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

সরেজমিনে কমলনগরের চরকাদিরা ইউনিয়নের ভুলুয়া নদী এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ভুলুয়া নদীতে পানি থৈ থৈ করছে। যদিও শুকনো মৌসুমে এ নদীর বিস্তীর্ণ এলাকায় কোনো পানি দেখা যায় না। বৃষ্টির পানি জমে ভুলুয়া এখন পানিতে টইটম্বুর। একইসঙ্গে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাও ডুবে আছে বৃষ্টির পানিতে। অধিকাংশ বাড়িতেই হাটুপরিমাণ পানি জমে আছে। আবার অনেক বাড়িতে কোমর পরিমাণ পানি, ঘরেও ঢুকে পড়েছে। সেখানকার মানুষ উঁচু এলাকায় আত্মীয়স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে। তবে কেউই সাইক্লোন শেল্টার বা আশ্রয়ণ কেন্দ্রে যায়নি।

রামগতির চরবাদাম ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকার পূর্ব পাশে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। যতদূর দেখা যায় সব পানি আর পানি। ঘরছাড়া রয়েছে কয়েকশ পরিবার। পানিবন্দি এসব এলাকায় সাপের ভয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

রামগতির চরপোড়াগাছা ইউনিয়নের চরপোড়াগাছা গ্রামের শেখের কিল্লা এলাকায় গিয়ে শতাধিক বাড়িতে হাঁটুপরিমাণ পানি দেখা যায়। এর মধ্যে আবদুল মজিদ ড্রাইভারের বাড়ি কোমর পরিমাণ পানিতে ডুবে আছে। ওই বাড়ির বাসিন্দা ঝর্ণা বেগম ও আরিফ হোসেনসহ কয়েকজন তাদের পানিবন্দি হয়ে দুর্দশার কথাগুলো বলেন। ঝর্ণা বেগম বলেন, একমাস আগ থেকে প্রায় প্রতিদিন চরপোড়াগাছায় বৃষ্টি শুরু হয়। এতে ২২ দিন ধরে তাদের বাড়ির উঠানসহ আশপাশের এলাকায় পানি জমতে শুরু করে। গত ৫ দিনের টানা বৃষ্টিতে বাড়ির সামনেসহ আশপাশে কোমর পর্যন্ত পানি জমে আছে। একটুও পানি নামছে না। বাড়িতে হাঁটুপরিমাণ পানি। আমাদের ঘরে আরও ৫টি পরিবাকে আশ্রয় দিতে হয়েছে। গত কয়েকদিন ইট বসিয়ে রান্না করতে হয়েছে। এখন তাও সম্ভব হচ্ছে না। পানির কারণে আগুন জ্বলছে না।

ওই বাড়ির বাসিন্দা আরিফ হোসেন বলেন, ২২ দিন ধরে আমরা খুব কষ্টে আছি। চারপাশের পানিতে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। বাচ্চাদেরকে সামলানো মুশকিল হয়ে পড়ছে।

চরপোড়াগাছা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন বলেন, আমার ইউনিয়নের আজাদনগরের দক্ষিণে স্টিল ব্রিজ এলাকায় নদী দখল করে কয়েকটি ঘর ওঠানো হয়েছে। ঘরগুলোর কারণে পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া নোয়াখালীর সুবর্ণচরের চরজব্বর ইউনিয়নে নদীটির তিনমুখী একটি এলাকায় পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়। একইসঙ্গে আমার ইউনিয়নের কোডেক বাজার এলাকায় সম্প্রতি একটি ব্রিজ হয়েছে। এতে ব্রিজের দুই পাশে বাঁধ দিতে হয়। কিন্তু বাঁধগুলো পুরোপুরি অপসারণ করা হয়নি। এখন তা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে বাঁধগুলো অপসারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। স্থানীয়রা আমার বিরুদ্ধে বাঁধ দেওয়ার অভিযোগ তুলেছে। উপজেলা প্রশাসনের লোকজন এসে দেখে গেছে, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি।

চেয়ারম্যান নুরুল আমিন আরও বলেন, প্রায় ২০ দিন ধরেই আমার এলাকার বহু মানুষ পানিবন্দি। অনেকের ঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। এতে লোকমান নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ ৩টি সাইক্লোন শেল্টারে অর্ধশতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে পানিবন্দি পরিবারগুলোর মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ-উজ জামান খান বলেন, নদীতে ভাটা আসলে জলাবদ্ধতা নিরসনে সব স্লুইস গেট খুলে দেওয়া হয়। আবার জোয়ারের সময় গেটগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। সার্বক্ষণিক আমাদের কর্মীরা পর্যবেক্ষণে রয়েছে।

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) সুরাইয়া জাহান বলেন, জেলায় জলাবদ্ধতায় প্রায় ৬ লাখ মানুষ পানিবন্দি রয়েছে। বুধবার (২১ আগস্ট) থেকে শুকনো খাবার বিতরণ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ছাড়া আমাদের স্থায়ী ও অস্থায়ী ১৮৯টি সাইক্লোন শেল্টার প্রস্তুত রয়েছে। খালগুলোতে অবৈধভাবে বাঁধ দিয়ে দখল করে রেখেছে প্রভাবশালীরা। এতে পানি নামতে পারছে না। জনগণ আমাদেরকে এ ব্যাপারে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে। প্রশাসনের উপস্থিতি ও জনগণের সহযোগিতায় অবৈধ বাঁধগুলো কেটে দেওয়া হচ্ছে।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

হাফেজ্জী হুজুরের ছোট ছেলে মাওলানা আতাউল্লাহ মারা গেছেন

সন্তানের মুখ দেখা হলো না নয়নের

বাঁশঝাড়ে পড়েছিল কার্টন, খুলতেই মিলল নারীর মরদেহ

চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে জিডি

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ

ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

এপ্রিলের মধ্যে এনসিপির জেলা-উপজেলা কমিটি : সারজিস

‘মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে আছে’ 

জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তি, আ.লীগ নেতাকে বেধড়ক পিটুনি

শনিবার থেকে যেসব এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি, হবে বজ্রপাতও

১০

ড. ইউনূসকে যেসব পরামর্শ দিলেন মোদি

১১

বীর মুক্তিযোদ্ধা কানুর বাড়িতে হামলা

১২

ঈদে দাওয়াত দিয়ে এনে জামাইকে গণধোলাই

১৩

সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যে এবার মুখ খুললেন মোদি

১৪

হাওরের গাছে ঝুলছিল সবজি বিক্রেতার লাশ 

১৫

‘আমার সব শেষ হয়ে গেল’

১৬

আট সন্তান থাকতেও ৯০ বছরের বৃদ্ধার জায়গা খোলা আকাশের নিচে

১৭

চুরি করতে গিয়ে পোশাক ও ছবি ফেলে গেল চোর

১৮

মা-বাবা, দুই বোনের পর চলে গেলেন প্রেমাও

১৯

ট্রাম্পের শুল্কারোপ / শত বছরের বিশ্ব বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

২০
X