ফরিদপুরে বাসচালক শামসু মোল্লাকে হত্যার ঘটনায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৪০০ নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) সন্ধ্যায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) খায়রুল বাশার কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, বুধবার (২১ আগস্ট) রাতে নিহত শামসু মোল্লার স্ত্রী মেঘলা বেগম বাদী হয়ে ফরিদপুর কোতয়ালী থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। ওবায়দুল কাদেরকে বানানো হয়েছে হুকুমের আসামি। এ ছাড়া দায়ের করা এ মামলায় জেলা আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও শ্রমিক লীগের অজ্ঞাতনামা ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
কোতয়ালী থানার ওসি মো. হাসানুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে বানানো হয়েছে হুকুমের আসামি। এ ছাড়া জেলা আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের অজ্ঞাতনামা আসামি ৪০০ জন।
তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত এ হত্যা মামলার কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে আসামি শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর বিকেল ৫টার দিকে একদল মানুষ ফরিদপুর কোতয়ালী থানা ঘেরাও করতে যায়। এ সময় পুলিশের সঙ্গে ব্যাপক সংঘর্ষ হয় থানা ঘেরাও করতে যাওয়া ব্যক্তিদের। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও মুহুর্মুহু গুলি ছুড়ে। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় গুলিতে নিহত হন পথচারী শামসু। গুলিটি তার নাক ও ঠোঁটের মাঝ দিয়ে ঢুকে মাথার পেছন দিয়ে বের হয়ে যায়।
শামসু শহরের পূর্ব খাবাসপুর মহল্লা এলাকার বাসিন্দা মরহুম মোবারক মোল্লার ছেলে। শামসু-মেঘলা দম্পতির একমাত্র মেয়ে ছয় বছরের সাম্মি। সাম্মি স্থানীয় বায়তুল আমান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির ছাত্রী। নিহত শামসু মোল্লা ফরিদপুরের করিম গ্রুপের মালিকানাধীন গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাসের চালক ছিলেন।
মন্তব্য করুন