ফরিদপুরে সদ্য অপসারিত পৌর মেয়র অমিতাভ বোস ও সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সামচুল আলম চৌধুরীসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নাসিম আহমেদের আদালতে দ্রুত বিচার আইনে মামলাটি করা হয়। বিচারক কোতোয়ালি থানাকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন- ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মোফাজ্জেল হোসেন, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হানিফ শেখ, ফরিদপুর জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা চুন্নু শেখ ও যুবলীগ কর্মী দিপংকর দাস।
মামলার বাদী সদর উপজেলা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান সরদার বলেন, আসামিরা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে এতদিন কোনো কিছুই বলা যায়নি। বর্তমানে পরিস্থিতি অনুকূলে থাকায় মামলা করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভিন্ন দল করার কারণে আসামিরা তার (লুৎফর) কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। তিনি চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে চলতি বছরের ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টার দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ভয় দেখায়। এ সময় তাদের ১ লাখ টাকা দিয়ে প্রাণভিক্ষা চাইলে তারা তাকে বেধড়ক মারধর করে। তার স্ত্রী বাধা দিলে তাকেও ঘরে আটকে রাখা হয়। আসামিরা পরে ঘরের সব মালপত্র ভাঙচুর করে ও নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ বিভিন্ন মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহ আবু জাফর বলেন, আদালত আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কোতোয়ালি থানাকে মামলাটি এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। অমিতাভ বোস ও শামসুল আলম চৌধুরী আলোচিত দুই হাজার কোটি টাকা পাচার মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। তবু প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তারা।
কোতোয়ালি থানার ওসি মো. হাসানুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, আদালতের নির্দেশে লুৎফর সরদারের মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন