জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার ১০ নম্বর ঝাউগড়া ইউনিয়নের টুপকারচর গ্রামের মনো মণ্ডলের ছেলে আনসার সদস্য মো. মিন্টু মিয়ার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বিয়ের দাবিতে অনশন করছেন ফরিদা আক্তার নামে এক সন্তানের জননী।
শনিবার (১৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টা দিকে মিন্টু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে, বাড়ির সামনে বসে আছে এক সন্তানের জননী ফরিদা। চারপাশে উৎসুক মানুষের ভিড়।
এর আগে শুক্রবার (১৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রেমিকের বাড়িতে অনশনে বসলে ফরিদাকে টেনেহিঁচড়ে ও মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় মিন্টুর পরিবারের লোকজন। আর মিন্টুকে না পেয়ে বারবার জ্ঞান হারিয়ে ফেলছেন অনশনে বসা এ নারী।
ফরিদা আক্তার বলেন, মিন্টু মিয়ার সঙ্গে প্রায় ৮ মাস ধরে প্রেমের সম্পর্ক চলছিল। গত ২৫ জুলাই রাতে দেখা করার কথা বলে কৌশলে ডেকে নিয়ে এক সঙ্গে রাত্রিযাপন করে। গত বুধবার বিয়ের কথা বলে ঢাকায় নিয়ে যান আনসার সদস্য মিন্টু মিয়া। ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের সামনে বিয়ের কাবিনের খরচের জন্য ২০ হাজার টাকা নেন। এ সময় মিন্টু খাবার কিনতে যাওয়ার কথা বলে ওই জায়গা থেকে পালিয়ে যান।
তিনি বলেন, পরে হাসপাতলে রাত কাটাই। শুক্রবার সন্ধ্যায় মিন্টুর বাড়িতে এসেছি। সারারাত ঘরের বাইরে থাকতে হয়েছে। সকালে মিন্টুর চাচা, মা আর বোন মিলে মারধর করে এবং মিন্টুর সঙ্গে সম্পর্কের প্রমাণ নষ্ট করার জন্য মোবাইল ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেন। এরপর সুকৌশলে বাড়ি থেকে মিন্টুর পরিবারের লোকজন সবাই পালিয়ে গেছে। বিয়ের দাবিতে এসেছি বিয়ে ছাড়া এই বাড়ি থেকে যাব না।
স্থানীয়রা জানান, সারা রাত ঘরের সামনে বসে ছিল ওই নারী। সকালে মিন্টু মিয়ার পরিবারের লোকজন মারধর করে বাড়ির সামনে ফেলে রেখে চলে যান। ওই নারী প্রায় তিন-চার ঘণ্টা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। মিন্টু মিয়া আগে বিয়ে করেছিল সেই বউ চলে গেছে। যে মেয়েটি এখন বিয়ের দাবিতে এসেছে এই নারীরও বিয়ে হয়েছিল। তারা দুজনেই একসঙ্গে পড়াশোনা করতে।
মেলান্দহ থানার ওসি রাজু আহমেদ কালবেলাকে বলেন, এ ঘটনায় কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে প্রয়োজনীয় আইনিব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন