শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার উত্তর ডামুড্যা মহিউসসুন্নাহ এতিমখানা ও হাফেজিয়া মাদ্রাসার মাছ বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও মসজিদ কমিটির সভাপতি জেবুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। এ নিয়ে এতিমখানার ছাত্র ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, এতিমখানা ও মসজিদ প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে মসজিদের পুকুরের মাছ ছাড়া, ধরা, পরিচর্যা ও ভোগ করে আসছে এতিমখানার শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। উপজেলা মৎস্য অফিস প্রতিবছর সরকারিভাবে এ এতিমখানায় মাছের পোনা দিয়ে আসছে। মাছ বড় হয়ে আসলে এতিমখানার ছাত্ররাই খায়। কিন্তু এ বছর মসজিদ কমিটির সভাপতি ও দারুল আমান ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য জেবুল বিশ্বাস সেই মাছ ধরে বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।
এতিমখানার ছাত্র মো. তানজিল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, আমাদের এতিমখানার টাকা দিয়ে এ পুকুরে মাছ ছাড়া হয়েছিল। এ ছাড়া প্রতি বছর উপজেলা মৎস্য অফিস আমাদের মাছের পোনা দেয়। এ মাছগুলো বড় হলে আমরা মাদ্রাসার ছাত্ররাই খাই। কিন্তু এ বছর হঠাৎ আমাদের মাছ ধরে বিক্রি করে দেন স্থানীয় ইউপি সদস্য।
স্থানীয় মুসল্লি মো. মোস্তফা বলেন, এতিমদের মাছ স্থানীয় ইউপি সদস্য জেবুল বিশ্বাস কোনো মতামত না নিয়ে বিক্রি করে দিল। এতিম ছাত্রদের জন্য একটি মাছও রেখে যায়নি সে। এটা এতিমদের প্রতি জুলুম করা হয়েছে।
এতিমদের মাছ বিক্রির বিষয়ে ইউপি সদস্য জেবুল বিশ্বাসের নিকট জানতে চাইলে তিনি বলেন, মসজিদ কমিটির অনুমতি নিয়ে আমি মাছ বিক্রি করেছি। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।
এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুর রহমান বাবলু সিকদার বলেন, দারুল আমান ইউনিয়নের ইউপি সদস্য এতিমখানার মাছ বিক্রি করেছে। এতিমদের মাছ এভাবে বিক্রি করা তার উচিত হয়নি। এর আগেও ওনার বিরুদ্ধে স্কুল মাঠ ভরাটের জন্য এমপির বরাদ্দকৃত টিআর এর টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ ছিল। তার সব অপকর্মের বিচার হওয়া দরকার।
দারুল আমান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মমিনুল হক মিন্টু সিকদার কালবেলাকে বলেন, এতিমখানার মাছ বিক্রির অভিযোগ আমি শুনেছি। তবে বিস্তারিত এখনো জানতে পারিনি। শুক্রবার এ বিষয়ে বৈঠক হবে। বৈঠকে শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য করুন