কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৮ আগস্ট ২০২৪, ০৩:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কুয়াকাটায় চাকরি হারানোর শঙ্কায় ১৫০০ কর্মকর্তা-কর্মচারী

কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। ছবি : কালবেলা
কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত। ছবি : কালবেলা

পর্যটন নগরী কুয়াকাটার সৈকত এখন সুনসান-নিস্তব্ধতা বিরাজ করছে। মাসখানেক ধরে চলা সারা দেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে স্থবির হয়ে পড়ে সব কর্মকাণ্ড। অলস সময় পার করছেন পর্যটনশিল্পের সঙ্গে যুক্ত সব ব্যবসায়ীরা। পুরো সৈকতে চলছে নীরবতা। এ নিয়ে পর্যটন নির্ভর ব্যবসায়ীদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। চাকরি হারানোর শঙ্কায় ১৫শ কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

বিভিন্ন হোটেল-রিসোর্টে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলমান আন্দোলনে পর্যটক না থাকায় অলস সময় পার করছে তারা। অধিকাংশ হোটেল কর্তৃপক্ষ কর্মচারীদের ছুটি দিয়েছে। মৌসুমের শুরুতে এমন খারাপ পরিস্থিতি মোটেই স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছেন না হোটেল ব্যবসায়ী।

সি গোল্ড রিসোর্টের কর্মচারী মো. জিসান বলেন, অবসর সময় কাটাচ্ছি। মাসখানেক ধরেই কোনো পর্যটকদের আনাগোনা নেই। ফলে অলস সময় পার করছি।

আবাসিক হোটেল কানসাই ইন’র ব্যবস্থাপক ফরাজি মো. জুয়েল বলেন, কোনো পর্যটকদের আনাগোনা না থাকায় অনেক আবাসিক হোটেল মোটেল ও রিসোর্ট বন্ধ হয়েছে। সামনে এমন হলে বাকিরাও বন্ধ করে দেবে। ফলে এরইমধ্যে অনেকে ছুটিতে আছে বাকিরা চাকরি হারানোর শঙ্কায় আছেন।

ক্যামেরা পারসন মো. মাসুদ বলেন, প্রতিদিন ১ হাজার টাকা থেকে ১৫০০ টাকা আয় হতো। গত কয়েকদিনে ডেইলি ১০০ টাকাও রোজগার হয় না। বৌ-বাচ্চা নিয়ে সংসার চালানো, মাস গেলে বাড়ি ভাড়া দিয়া টিকে থাকা এখন কষ্ট হচ্ছে। এটা থেকে মুক্তি চাই, না হয় না খেয়ে মারা যেতে হবে।

সৈকতে চা বিক্রেতা আলতাফ বলেন, মানুষ এমন দূরাবস্থা দেখে ঘর থেকে বের হতে ভয় পাচ্ছে। এমন সংকট আমরা চাই না। দ্রুতই কেটে আশা করি।

হোটেল গোল্ডেন ইনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কে এম জহির জানান, আমরা সবার আগে ধাক্কা খাই। এটাতে কাটতে সময় লাগে অনেকদিন। এখন রাজনৈতিক সমস্যা সমাধান না হলে এ সংকট কবে কাটবে তা বলা মুসকিল। আমরা এখান থেকে মুক্তি চাই।

কুয়াকাটা হোটেল মোটেল এমপ্লোয়ি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইব্রাহিম ওয়াহিদ বলেন, আমাদের দিনগুলো কষ্টে কাটছে। অনেকেই চাকরি হারিয়েছে। এমন চলতে থাকলে বাকি কর্মচারীরাও চাকরি হারানোর শঙ্কায় থাকবে।

হোটেল মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি মোতালেব শরিফ বলেন, বৈশ্বিক নানা সংকটের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা থাকলে মানুষ ঘর থেকে বের হয় না। গত কয়েক দিন ধরে রাজনৈতিক অস্থিরতায় পর্যটকরা মুখ ফিরেয়ে নিয়েছে। এ সংকট দূর না হলে আমরা পথে বসে যাব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

আজ ঢাকার আবহাওয়া যেমন থাকবে

০৩ এপ্রিল : ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

০৩ এপ্রিল : আজকের নামাজের সময়সূচি

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭% শুল্ক বসাল যুক্তরাষ্ট্র

যুদ্ধ প্রস্তুতি? ভারত মহাসাগরে ৬ মার্কিন বোমারু বিমান

ইসরায়েলবিরোধী পোস্টে বাতিল হতে পারে মার্কিন ভিসা

সিলেটে আ.লীগ নেতা ও সাবেক মেয়রের বাসায় হামলা ও ভাঙচুর

টিকটক করতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে যুবকের মৃত্যু

গাজায় আরও ভূমি দখলে ইসরায়েল, বাড়ছে আগ্রাসন

করোনায় আক্রান্ত পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট জারদারি

১০

আবারও ভারতে বিমান বিধ্বস্ত, পাইলট নিহত

১১

ভূমিকম্পের পর মিয়ানমার জান্তার ২০ দিনের যুদ্ধবিরতি

১২

বনশ্রীতে নারী সাংবাদিককে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে মামলা

১৩

রাণীশংকৈলে সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুলকে গণসংবর্ধনা

১৪

দুর্ঘটনায় নিহত বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সহ-মুখপাত্র

১৫

প্রধান উপদেষ্টার প্রতিনিধিকে মার্কিন উপ-জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার ফোন

১৬

ড. ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদির বৈঠক হচ্ছে

১৭

সভাপতিকে মারধর করায় ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

১৮

কাল বিটিভিতে রশীদ সাগরের উপস্থাপনায় ‘প্রিয় শিল্পীর প্রিয় গান’

১৯

দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্পিড গান ব্যবহার করছে হাইওয়ে পুলিশ

২০
X