ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ডাকা অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম দিনে সংঘর্ষে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন শতাধিক।
রোববার (৪ আগস্ট) বিকেল ৪টায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর মহিপাল এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. আসিফ ইকবাল কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহত পাঁচজন হলেন, ফেনী সরকারি কলেজের অনার্সের শিক্ষার্থী ও ফেনী পৌর এলাকার বারাহীপুরের বাসিন্দা ইশতিয়াক আহমেদ শ্রাবণ, সদর উপজেলার ফাজিলপুর কলাতলী গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে ছাইদুল ইসলাম, পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ কাশিমপুর এলাকার সিরাজুল ইসলামের ছেলে শিহাব উদ্দিন, চরমজলিশপুর ইউনিয়নের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে সাকিব ও অন্যজন আরাফাত। এ ছাড়া বাকি তিনজনের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা গেছে, দুপুর ২টার দিকে শহরের ট্রাংক রোড থেকে দলবল নিয়ে শহীদ শহিদুল্লাহ কায়সার সড়ক হয়ে মহিপালে যান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। মহিপাল এলাকায় পৌঁছলে আন্দোলনকারীদের ওপর অতর্কিত গুলি ও হামলা চালায় নেতাকর্মীরা। একপর্যায়ে ক্ষমতাসীন দলের আরেকটি পক্ষ শহরের ইসলামপুর রোডে বিএনপি নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি ও হামলা করে।
এর আগে বেলা সাড়ে ১১টা থেকে মহিপাল ফ্লাইওভারের নিচে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। একপর্যায়ে আন্দোলনকারীদের একটি অংশ মহিপাল ফ্লাইওভারের দক্ষিণাংশে অবস্থান নিয়ে সড়ক অবরোধ করেন। বিক্ষুব্ধরা ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন ব্যানার- ফেস্টুন ছিঁড়ে ফেলেন। সড়ক অবরোধ করায় বন্ধ থাকে যান চলাচল।
হাসিবুল ইসলাম নামে একজন বলেন, আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে তারা প্রকাশ্যে গুলি করে হামলা চালিয়েছে। অনেকে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। আপাতত আর কিছু বলতে পারছি না।
প্রসঙ্গত, শনিবার (৩ আগস্ট) একদফা দাবি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এর আগে, রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সর্বাত্মক অসহযোগ আন্দোলনের ডাকও দেওয়া হয়েছে।
মন্তব্য করুন