পোশাক-পরিচ্ছদ দেখে বোঝার উপায় নেই তারা দালাল। দালাল সদস্যদের দেখে মনে হবে তারা হাসপাতালের কর্মচারী। ডাক্তার-নার্সদের সঙ্গে একই রুমে অবস্থান করছে। অথচ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের কৌশলে বুঝিয়ে বাধ্য করে নেওয়া হচ্ছে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে। এতে সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন জনসাধারণ।
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এখন দালালের উৎপাত বেড়েছে। হাসপাতালের আশপাশসহ প্রধান ফটকের সামনেই গড়ে উঠেছে গুটিকয় ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। এর মধ্যে কয়েকটির নেই লাইসেন্স। এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে নানা বয়সী নারী-পুরুষকে। যাদের কাজই হলো সরকারি হাসপাতাল ঘুরে নানা প্রলোভনে রোগীকে তাদের প্রতিষ্ঠানে নিয়ে আসা।
আহম্মদ নামের এক রোগীর স্বজন বলেন, ওয়ার্ডের ভেতর ডাক্তার-নার্সদের সঙ্গে দালাল চক্রের সদস্যরা অবস্থান করে। এতে রোগীর স্বজনরা বিভ্রান্ত হয়ে প্রতারণার ফাঁদে পড়ছেন।
বেশ কয়েকজন রোগী ও তাদের স্বজন জানান, সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা অনেক ব্যক্তিকে নানা প্রলোভন দেখিয়ে ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দালালরা। অনেকে তাদের এই ফাঁদে পা বাড়ান। পরে উন্নত সেবার নামে নানাভাবে খরচ হয় টাকা। তাদের এই ফাঁদে সবচেয়ে বেশি পড়েন প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা রোগী ও স্বজনরা।
টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মূল ফটকের কাছে দাঁড়িয়ে রোগীর স্বজনদের সঙ্গে কথা বলছিল এক নারী দালাল। রোগীকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতে স্বজনদের নানা প্রলোভন দেখিয়ে বোঝানো হচ্ছিল। এ সময় তার কাছে গিয়ে সাংবাদিক পরিচয়ে কথা বলতে চাইলে দ্রুত হাসপাতাল ত্যাগ করে সে।
টুঙ্গিপাড়া ১০০ শয্যাবিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের তত্ত্বাবধায়ক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কয়েক দফায় টুঙ্গিপাড়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের নিযুক্ত দালাল সদস্যদের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বাইরে থাকার জন্য বলা হয়েছে। ফের ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ক্লিনিক মালিকদের সঙ্গে বসে সমাধান করার চেষ্টা করব। যদি অবাধ্য হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
টুঙ্গিপাড়ার ইউএনও মো. মইনুল হক জানান, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জনগণ যাতে হয়রানিমুক্ত কাঙ্ক্ষিত সেবা পায়, তার জন্য উপজেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। এ ধরনের অভিযোগ এর আগেও এসেছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে অভিযান পরিচালনা করেছি। যখন আমরা অভিযান পরিচালনা করেছি, তখন অপরাধীদের শনাক্ত করতে পারিনি।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রতিনিধি এবং গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত করতে চাই। আশা করি, আগামী এক মাসের ভেতর টুঙ্গিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত করতে পারব।
মন্তব্য করুন