শেরপুরের একমাত্র স্থলবন্দর নালিতাবাড়ীর নাকুগাঁও স্থলবন্দর। রাজস্ব বিভাগের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বের কারণে ভারতীয় পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। শুধু ভুটানের পাথর এনে কোনো মতে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে বন্দরটি। ফলে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করে বলেন, রাজস্ব কর্মকর্তার মৌখিক নির্দেশনা নিয়ে সৃষ্টি হয়েছে এ জটিলতা। ব্যবসায়ীরা ভারতীয় নিয়ম অনুযায়ী প্রতিটি ট্রাকে ৬ চাকার ট্রাকে ১২ টন, ১০ চাকার ট্রাকে ২১ টন করে পাথর আনছেন। কিন্তু কাস্টম অফিস কোনো প্রজ্ঞাপন ছাড়াই মৌখিক নির্দেশনা দিচ্ছেন ৬ চাকার ট্রাকে ১৮ টন, ১০ চাকার ট্রাকে ২৮ টন করে পাথর আনতে হবে। কিন্তু ভারতীয় ব্যবসায়ীরা কোনোভাবেই নিয়মের অতিরিক্ত পণ্য ট্রাকে বোঝাই করতে রাজি নন।
তারা বলেন, এ কারণে ভারত থেকে পণ্য আমদানি করতে পারছেন না দেশের ব্যবসায়ীরা। গেল অর্থবছরের গোড়ার দিকে এ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সব পণ্য আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি খরচে ভুটান থেকে নিম্নমানের পাথর এনে লোকসান গুনছেন তারা। এতে একদিকে যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ব্যবসায়ীরা, অন্যদিকে বেকার হয়েছেন হাজার হাজার শ্রমিক। আর কোটি কোটি টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।
বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ২০২২-২৩ অর্থবছরে নাকুগাঁও স্থলবন্দরে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আদায় হয়েছে ৫০ লাখ ২০ হাজার টাকা। অর্থাৎ এক বছরে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে ১ কোটি ৩১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।
জানা গেছে, ১৯৯৭ সালে নালিতাবাড়ী উপজেলার নাকুগাঁও শুল্ক বন্দরের কার্যক্রম শুরু হলেও ২০০২ সালে ১৯টি পণ্যের মধ্যে কয়লা ও পাথর ছাড়া সব পণ্য আমদানি বন্ধ হয়। পরে ২০০৯ সালে বন্দরটি পূর্ণাঙ্গ বন্দর হলেও ২০১৫ সালে স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। বর্তমানে ২২টি পণ্য আমদানির কথা থাকলেও আমদানি হচ্ছে শুধু পাথর। আগে যেখানে ভারত ও ভুটান থেকে প্রতিদিন শতাধিক ট্রাক আসত, এখন শুধু ভুটান থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি ট্রাক আসছে। কিন্তু কেন ভারত থেকে আসছে না ট্রাক। এতে জেলার একমাত্র কর্মচঞ্চল নাকুগাঁও স্থলবন্দর চলছে ঝিমিয়ে ঝিমিয়ে। এই বন্দর দিয়ে অনুমোদিত আমদানিযোগ্য পণ্যের মধ্যে রয়েছে গবাদিপশু, পাথর, কয়লা, রাসায়নিক সার, বল ক্লে, কোয়ার্টারস, চায়না ক্লে, কাঠ, টিম্বার, চুনাপাথর, পেঁয়াজ, মাছের পোনা, বৃক্ষ, বীজ, গম, মরিচ, রসুন, আদা, শুঁটকি, ফ্লাইএস, সুপারি ও তাজা ফলমূল।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের লোড-আনলোড শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সুজন মিয়া জানান, ভারতীয় পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় চার থেকে পাঁচ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন। তিনি সরকারের কাছে দ্রুত ভারতীয় পাথর ও কায়লা আনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে বলেন, তাতে শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হবে এবং জীবন যাপন সহজ হবে।
নাকুগাঁও স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল বলেন, বন্দর বন্ধ রয়েছে কাস্টমসের অসহযোগিতার কারণে। আগে ১০ চাকার গাড়িতে ২১ টন, ৬ চাকার গাড়িতে ১২ টন পাথর আমদানি হতো। যা এখন সিলেট বর্ডার দিয়েও আসছে। কিন্তু কাস্টমস কর্মকর্তা সম্প্রতি প্রজ্ঞাপন ছাড়াই মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন ১০ চাকার গাড়িতে ২৮ টন ও ৬ চাকার গাড়িতে ১৮ টন পণ্য আনতে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ এ নিয়ম মেনে নিতে পারছে না, ফলে আমদানি বন্ধ রয়েছে। দ্রুত সমাধানের দাবি জানাচ্ছি।
স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা সুজনকুমার দত্ত বলেন, বন্দরের ব্যবসায়ীরা তাদের ইচ্ছা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পণ্য আমদানি করবেন। যে পরিমাণ পণ্য আমদানি হবে, সে পরিমাণ পণ্যই অ্যাসেসমেন্ট করা হবে। এ ক্ষেত্রে আমরা যথেষ্ট আন্তরিক রয়েছি।
শেরপুর কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. ফরিদুল আলমের মোবাইল ফোনে প্রতিটি ট্রাকে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহনের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি জানান, এ ব্যাপারে ব্যবসায়ীরা ঢাকায় কমিশনারের সঙ্গে মিটিং করেছেন। ওখান থেকেই একটা মেসেজ নিয়ে আসছে। আমার সঙ্গে ব্যবসায়ীদের কোনো মিটিং হয়নি।
মন্তব্য করুন