বান্দরবানের থানচিতে টানা কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টিতে সাঙ্গু নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে করে পর্যটনখ্যাত থানচির বলীপাড়া ও তিন্দু ইউনিয়নে নৌচলাচল বন্ধ রয়েছে। ভোগান্তিতে পড়েছে হাজার হাজার মানুষ।
বৃহস্পতিবার (১ আগস্ট) সকাল থেকে সাংগু নদীতে পানি বৃদ্ধির আশঙ্কায় নদীতে নৌকা চলাচল বন্ধ রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা।
জানা গেছে, গত সোমবার (২৯ জুলাই) হতে থেমে থেমে টানা বৃষ্টি কারণে হঠাৎ সাঙ্গু নদীর পানি বেড়ে যায়। ফলে নদীতে নৌচলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হওয়াতে বন্ধ করে দেয়। বিপাকে পড়েছেন দুই ইউনিয়নের বাসিন্দারা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেও পারছেন না তারা।
সাংগু নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দুই ইউনিয়নের বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তারা পাহাড় ধস ও বন্যার শঙ্কায় বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। দুর্যোগের মোকাবিলার জন্য জনস্বার্থে মাইকিং এবং উপজেলা ৪ ইউনিয়নের ১৫টি সরকারি বিদ্যালয়ের ভবনকে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেওয়া হয়েছে। পাহাড়ের পাদদেশে ও নদীর তীরবর্তী এলাকা আশ্রিতদের জন্য প্রয়োজনীয় শুকনো খাবার, পানি বিশুদ্ধকরণের ট্যাবলেট, আলোর জন্য মোমবাতি, রান্না করার চুল্লা, খিচুড়িসহ নানান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুন সাংবাদিকদের বলেন, জনগণের জানমাল রক্ষা করার সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। আমি সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে সে দায়িত্ব-কর্তব্য পালন করে যাচ্ছি। উপজেলা প্রশাসন যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করার জন্য সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার ভূমি মোহাম্মদ আছিফ উদ্দীন, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা পিআইও মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর, তিন্দু ইউপি চেয়ারম্যান ভাগ্য চন্দ্র ত্রিপুরা প্রমুখ।
এদিকে উপজেলা বলীপাড়া ইউনিয়নের বাগানপাড়া এলাকায় প্রধান সড়কে কালভার্ট ও নিম্নাচল এলাকাগুলো প্লাবিত হওয়ায় যান চলাচলের বিঘ্ন ঘটেছে।
উল্লেখ্য, গত বছর ২০২৩ সালে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে টানা ১০ দিনব্যাপী ভারি বর্ষণের কারণে যান চলাচল বন্ধ হয়ে থানচি উপজেলার সঙ্গে সারা দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
মন্তব্য করুন