এম এ মাসুদ, সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০১ আগস্ট ২০২৪, ০৩:১২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

আধুনিকতার কাছে ধরাশায়ী ‘ঠাটারি’ পেশা

পাতিল মেরামতের কাজ করছেন সুরুজ্জামাল। ছবি : কালবেলা
পাতিল মেরামতের কাজ করছেন সুরুজ্জামাল। ছবি : কালবেলা

বংশ পরম্পরায় বিভিন্ন তৈজসপত্রের ফুটো মেরামত করা ঠাটারিদের (তৈজসপত্র মেরামতকারী) পেশা। দাদার পর বাবা, আবার বাবার পর ছেলেরাও পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। কয়েক দশক আগেও তাদের রুটি রোজগারের পথ ছিল সাংসারিক কাজে ব্যবহৃত টিন ও এ্যালুমিনিয়ামের তৈরি বিভিন্ন তৈজসপত্রের ফুটো মেরামত করা।

কিন্তু এখন নতুন নতুন উপকরণে তৈরি আধুনিক ডিজাইনের তৈজসপত্রের ব্যবহারে ধরাশায়ী করেছে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ঠাটারিদের। ফলে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে ঠাটারিদের।

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের ধুমাইটারি বটতলা গ্রামে বাস করত দুটি পরিবার। সেই পরিবারের দুই ভাই সুরুজ্জামাল ও মোজা। এখনো আঁকড়ে ধরে আছেন বাপ-দাদার সেই আদি পেশা।

জানা গেছে, পরিবারের ঠাট বজায় রাখার বিভিন্ন তৈজসপত্র মেরামত করেন বলে এদের ঠাটারি বলা হয়। আশির দশকের দিকেও প্রাচীন উপকরণ মাটি দিয়ে তৈরি থালার ব্যবহার দেখা যেত গ্রামগঞ্জে। পাশাপাশি অবস্থা সম্পন্ন পরিবারগুলোতে দেখা যেত টিন, কাঁসা, পিতল ও চীনা মাটির থালার ব্যবহার। তা ছাড়া বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হতো এ্যালুমিনিয়ামের তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, জগ, বদনা, কেটলি, টিনের বালতি ও মুড়ি রাখার টিন।

ব্যবহৃত এসব তৈজসপত্র নানা কারণে হয়ে যেত ফুটো কিংবা হাতল ভাঙা। হাঁড়ি-পাতিলের ভেঙে যেত ওপরের কান্টা। এসব সারাতে কালো চামড়ার তৈরি হাপর, পিচ এবং ভাঙা টিন ও সিলভারের টুকরা কাঁধে নিয়ে গ্রামে গ্রামে ঘুরে হাঁক ছাড়তেন ঠাটারিরা। তাদের ডাক শুনে বাড়ি থেকে বের হতেন গৃহিণীরা। মেরামত করে নিতেন ভেঙে যাওয়া সব জিনিসপত্র।

কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় ছন্দপতন ঘটে ঠাটারিদের জীবন-জীবিকায়। তিন যুগ আগেও যেখানে কদর ছিল ঠাটারিদের। সেখানে আধুনিকতার কাছে এখন ধরাশায়ী হয়েছেন তারা। টান পড়েছে তাদের জীবিকায়।

৫০ বছর ধরে ঠাটারির কাজ করা সুরুজ্জামাল বলেন, এখন আর সেই রকম আয় নেই। এখন আর কেউ এগুলো ভালো করে না। গ্রামে গ্রামে ঘুরেও আয় হয় এক থেকে দেড়শো টাকা। হাটে আসলেও কাজ না থাকায় বসে থাকতে হয়। একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, ছেড়ে দিতে হবে বাপ-দাদার এ পেশা।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) গাইবান্ধার সহকারী মহাব্যবস্থাপক রবীন্দ্র চন্দ্র রায় কালবেলাকে বলেন, যদি এ পেশা ছেড়ে কেউ অন্য পেশায় যেতে চায় তাহলে আমরা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহযোগিতা করব।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ড. ইউনূসকে যেসব কথা বললেন মোদি

বীর মুক্তিযোদ্ধা কানুর বাড়িতে হামলা

ঈদে দাওয়াত দিয়ে এনে জামাইকে গণধোলাই

সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যে এবার মুখ খুললেন মোদি

হাওরের গাছে ঝুলছিল সবজি বিক্রেতার লাশ 

‘আমার সব শেষ হয়ে গেল’

আট সন্তান থাকতেও ৯০ বছরের বৃদ্ধার জায়গা খোলা আকাশের নিচে

চুরি করতে গিয়ে পোশাক ও ছবি ফেলে গেল চোর

মা-বাবা, দুই বোনের পর চলে গেলেন প্রেমাও

ট্রাম্পের শুল্কারোপ / শত বছরের বিশ্ব বাণিজ্যে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন

১০

ড. ইউনূসের সঙ্গে ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক 

১১

কাহালু সরকারি মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশন গঠন

১২

বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থা নিয়ে প্রেস সচিবের পোস্ট

১৩

আগে ছিলেন আ.লীগ নেতা, বিএনপিতে পেলেন সদস্যসচিবের পদ

১৪

জনবসতিহীন পেঙ্গুইন দ্বীপে ট্রাম্পের শুল্কারোপ

১৫

মোদিকে ছবি উপহার দিলেন ড. ইউনূস

১৬

থাই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ড. ইউনূসের বৈঠক

১৭

হাসিনার প্রত্যর্পণসহ যেসব বিষয় আলোচনা হলো ড. ইউনূস-মোদির

১৮

আসিয়ান সদস্যপদের জন্য থাই বিশিষ্টজনদের সমর্থন চাইলেন ড. ইউনূস

১৯

দুদিনেও জ্ঞান ফেরেনি প্রেমার, স্কয়ার হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে আরাধ্যকে

২০
X