গাইবান্ধায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিক্ষোভ থেকে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের সামনে রাখা ১১টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দিয়েছে আন্দোলনকারীরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৮/১০ নেতাকর্মী।
বুধবার (১৭ জুলাই) সকালে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, সকাল থেকে কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ মিছিল করছিল। সকাল ১০টায় কোটাবিরোধী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন সড়ক থেকে মিছিল নিয়ে এসে ১ নম্বর ট্রাফিক মোড়ে মিলিত হয়। শহরে মিছিলের একপর্যায়ে পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পালটাধাওয়া ঘটনা ঘটে।
ছাত্রছাত্রীরা শহরের এক নম্বর রেলগেট অবরোধ করে রেললাইন রেল চলাচল বন্ধ করে দেয়। ১ নম্বর রেলগেটের উত্তর পাশে জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে রাখা ১১টি মোটরসাইকেলে আগুন লাগিয়ে দেয় কোটাবিরোধীরা। এ ছাড়া পাথর দিয়ে হামলা এবং ভাঙচুর চালানো হয়।
হামলায় গাইবান্ধা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বকর সিদ্দিক, পৌর মেয়র মতলুবর রহমান, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মৃদুল মোস্তাফিজ ঝন্টু, পৌর কমিশনার শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কামাল হোসেন, আবদুল হাকিম শাকিল, শাহ আলমসহ ৮/১০ জন আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আনার জন্য একপর্যায়ে পুলিশ কাঁদুনে গ্যাস দিয়ে আন্দোলনকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। পরে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা মিছিল নিয়ে বিএনপির জেলা অফিসে ভাঙচুর চালায়।
আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবু বকর সিদ্দিক বলেন, কোটার আন্দোলনে কিছু অনুপ্রবেশকারীরা ঢুকে সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে, যা দুঃখজনক ও নিন্দনীয়।
গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মাসুদ রানা কালবেলাকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সকাল ১০টা থেকে শহরে কোটাবিরোধীদের আন্দোলন প্রথমে শান্তিপূর্ণ থাকলেও একপর্যায়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে টিয়ারশেল ছুড়লে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতা এবং একজন পুলিশ সদস্য আহত হন।
মন্তব্য করুন