জামালপুর সদরের দিগপাইত শামসুল হক ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ আহসান উল্লাহ জুলহাসের বিরুদ্ধে জাল সনদে চাকরি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকে মামলা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন জামালপুরের উপপরিচালক মলয় কুমার সাহা বাদী হয়ে এ সংক্রান্ত একটি এজাহার দায়ের করেছেন। ২৫ জুলাই (মঙ্গলবার) এই এজাহার দায়ের করেন তিনি।
এজাহার সূত্রে জানা যায়, আহসান উল্লাহ জুলহাস ২০০৩ সালে প্রভাষক (কম্পিউটার) পদে চাকরিতে নিয়োগপ্রাপ্ত হন যা বর্তমানে প্রভাষক (আইসিটি) নামে পরিচিত। নিয়োগের যোগ্যতায় বলা হয়েছিল- অনার্স মাস্টার্সসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে উপযুক্ত প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণের সনদ থাকতে হবে। কিন্তু তিনি একটা ভূয়া সনদের মাধ্যমে চাকরিতে নিয়োগ পান।
এজাহারে বলা হয়েছে- তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি জাল সনদ দিয়ে দীর্ঘদিন যাবৎ চাকরি করছেন ও সরকারি কোষাগার হতে অর্থ উত্তোলনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং নিয়োগে জালিয়াতি ও টেম্পারিং করেও মোটা অঙ্কের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। অনুসন্ধানে আহসান উল্লাহ কর্তৃক তার আবেদনের সাথে দাখিলকৃত কম্পিউটার প্রশিক্ষণ বিষয়ক সনদপত্র, যা জাতীয় বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি, (নট্রামস) কর্তৃক ইস্যু দেখানো সনদ যাচাইয়ের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের জামালপুর জেলা কার্যালয় তা বগুড়ার নট্রামস পরিচালক বরাবর প্রেরণ করেন এবং জানতে চান এই সনদ উক্ত দপ্তর থেকে ইস্যু করা হয়েছে কিনা। হয়ে থাকলে নট্রামস এর অধীনস্থ বা তালিকাভুক্ত কোন প্রতিষ্ঠানে প্রশিক্ষণ গ্রহণের প্রেক্ষিতে সনদপত্রটি ইস্যু করা হয়েছে তা জানাতে অনুরোধ করা হয়।
উক্ত অনুরোধের প্রেক্ষিতে জাতীয় কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নেকটার সাবেক নট্রামস) প্রয়োজনীয় তথ্য জামালপুর দুদকের উপপরিচালক বরাবর সরবরাহ করেন। উপপরিচালক (নেকটার) বগুড়া প্রেরিত প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, সনদপত্রটি নেকটার কর্তৃক ইস্যুকৃত নয়। সনদপত্রটি ‘জাল/ভুয়া’ মর্মে নেকটার (বগুড়া) এর উপপরিচালক মন্তব্য প্রদান করেন। এ থেকে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জনাব মো. আহসান উল্লাহ ওরফে জুলহাস দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রী কলেজে তৎকালীন প্রভাষক (কম্পিউটার) যা বর্তমানে প্রভাষক (আইসিটি) পদে চাকরিতে নিয়োগের সময় জাতীয় বহুভাষী সাঁটলিপি প্রশিক্ষণ ও গবেষণা একাডেমি (নট্রামস) এর নামে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের জাল সনদপত্র দাখিল করে চাকরিতে যোগদান করেন তথা জাল সনদপত্র ব্যবহার করে দণ্ডবিধির ৪৬৪/৪৬৭/৪৭১ এবং ১৭৭ ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।
উক্ত অপরাধের দায়ে দিগপাইত শামছুল হক ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ আহসান উল্লাহ জুলহাসের বিরুদ্ধে একটি মামলা রুজু করার জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুমোদন চাওয়া হয়। তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৬৪/৪৬৭/৪৭১ এবং ১৭৭ ধারায় মামলা রুজুর অনুমোদন দেয় দুদকের প্রধান কার্যালয়। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার দুদকের জামালপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক মলয় কুমার সাহা এজাহার দায়ের করেন।
দুদক উপপরিচালক এজাহার দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
আহসানউল্লাহ জুলহাস জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। অভিযোগ আছে, দলীয় সুপারিশে তিনি ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ পান। ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ হিসেবে কলেজের কৃষি ডিপ্লোমা শাখায় টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে দশজন শিক্ষক নিয়োগের সাথেও তিনি জড়িত। এছাড়া তিনি একটা হত্যা মামলারও আসামি। ইতোপূর্বে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) তাকে তিনবার বরখাস্ত করার আদেশ দিলেও কলেজ গভর্নিং বডি তা বাস্তবায়ন করেনি।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আহসান উল্লাহ জুলহাস বারবার ফোন করলেও ফোন ধরেননি। দিগপাইত শামসুল হক ডিগ্রি কলেজে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
অধ্যক্ষ মহির উদ্দিন তালুকদার বলেন, ‘ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের মামলার বিষয়টি শুনেছি। উপাধ্যক্ষ আহসান উল্লাহ জুলহাস গত মঙ্গলবার থেকে ছুটিতে আছেন।’
মন্তব্য করুন