ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বাংলা বাজার থেকে হাটখোলা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার রাস্তা। এ রাস্তা দেখলে মনে হবে, এটি রাস্তা নয় ধানের চারা রোপণের জন্য হাল চাষ করা হয়েছে। দেখে মনে হবে যেন চাষের জমি।
রাস্তাটির এমনই বেহাল দশা যে কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারে না। গাড়ি নিয়ে চলাচল তো দূরের কথা হেঁটে চলাচলেরও কোনো অবস্থা নেই। প্রতিনিয়তই চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন স্থানীয় জনসাধারণ, স্কুল-কলেজ, মাদরাসা শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও বিভিন্ন ব্যবসায়ীসহ স্থানীয়রা।
সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার শম্ভুপুর ইউনিয়ন ৭ নম্বর ওয়ার্ড বাংলা বাজার থেকে হাটখোলা পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা। এ রাস্তায় কোথাও ছোট-বড় গর্ত। এসব গর্তে জমে আছে পানি আর কাদা। ৩ কিলোমিটার রাস্তার মধ্যে রয়েছে প্রাইমারি, হাইস্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা পানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা।
পল্লি চিকিৎসক আফসার উদ্দিন বলেন, এ এলাকায় ৬০০ পরিবারের প্রায় দুই হাজার লোকের বসবাস। কিন্তু দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে এ কাঁচা রাস্তা দিয়ে আমাদের চলাচল করতে হয়। পুরো বর্ষায় কাদামাটি মাড়িয়ে রাস্তা দিয়ে চলাচল করা আমাদের জন্য চরম কষ্টের। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় বৃষ্টি হলে রাস্তা পানির নিচে ডুবে থাকে, পানি সরে গেলে রাস্তা কাদা হয়ে যায়।
তিনি বলেন, ছেলেমেয়েদের স্কুল কলেজে যেতে কষ্ট হয়, অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিতে হলে কোলে করে নিতে হয়। রাস্তার বিষয়ে অনেকবার চেয়ারম্যান, মেম্বারদের কাছে অভিযোগ দিয়েছি কিন্তু কোনো কাজ হয়নি।
কোড়ালমারা বাংলা বাজার হাইস্কুলের শিক্ষার্থী মো. নুহাদ বলেন, আমাদের এ এলাকা থেকে অনেক ছাত্রছাত্রী প্রতিদিন স্কুলে ও মাদরাসায় যায়। বর্ষাকালে এ কাঁচা রাস্তা দিয়ে কাদাপানি মাড়িয়ে স্কুলে যেতে আমাদের কষ্ট হয়। অনেক সময় জামা-কাপড় নষ্ট হয়ে যায়। রাস্তাটি দ্রুত পাকা করে দিলে এলাকাবাসীসহ সবার উপকার হবে।
শম্ভুপুর শাহে আলম মডেল কলেজের হিসাব সহকারী মো. আব্বাসউদ্দীন বলেন, রাস্তাটি জনবহুল এলাকায় অবস্থিত। এখানে রয়েছে স্কুল-মাদ্রাসা, মসজিদ, মন্দির ও হিন্দুদের শ্মশান। কিন্তু কাঁচা রাস্তার কারণে বর্ষায় চলাচল করা খুবই কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আশা করি জনগণের কথা চিন্তা করে কাঁচা রাস্তাটি পাকাকরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শম্ভুপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাসেল মিয়া বলেন, আমি চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে ইউনিয়নের মূল রাস্তাগুলোর উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে আরও কিছু কাঁচা রাস্তা চিহ্নিত করা হয়েছে। এ রাস্তাটি আইডির অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আশা করছি দ্রুত এসব রাস্তা পাকাকরণের কাজ শুরু হবে।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. হাসনাইন আহমেদ বলেন, রাস্তাটি আইডি নম্বর ছিল না। কিছুদিন আগে আইডি নম্বর দেওয়া হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টা জানানো হয়েছে। সরেজমিনে রাস্তাটি পরিদর্শন করেছি। এটি একটি ঘনবসতি এলাকা। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে।
মন্তব্য করুন