মো. শরফ উদ্দিন জীবন, কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ : ০৬ জুলাই ২০২৪, ১২:৪৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ

কিশোরগঞ্জে মুরগির বিষ্ঠায় মাছ চাষ, ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য

মৎস্য খামারের উপর মুরগির শেড। ছবি : কালবেলা
মৎস্য খামারের উপর মুরগির শেড। ছবি : কালবেলা

মৎস্য খামারের ওপর মুরগির শেড। জনস্বাস্থ্যের জন্য এটি ক্ষতিকর হওয়া সত্ত্বেও মৎস্য বিভাগ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের নিষেধ উপেক্ষা করে কয়েকশ একর কৃষিজমিকে রূপান্তর করা হয়েছে ফিশারিতে। সেখানে একই সঙ্গে মুরগি পালন ও মাছ চাষ হওয়ায় দূষিত হচ্ছে পানি ও পরিবেশ। মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি মাছের খাবার হিসেবে ব্যবহার হওয়ায় অ্যামোনিয়া গ্যাসের মতো বিষাক্ত উপাদান মিশছে মাছের শরীরে। আর এসব ক্ষতিকর জীবাণু নিয়ে বেড়ে ওঠা মাছ চলে যাচ্ছে স্থানীয় বাজারসহ ঢাকা ও আশপাশের বিভিন্ন জেলায়।

কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানাপাটুলি ইউনিয়নের মাথিয়া এলাকার প্রবেশমুখে রাস্তার দুপাশে সারি সারি চোখে পড়বে ফিশারির ওপর মুরগির শেড। যেখানে বছরে খামারিদের শতকোটি টাকার শুধু মাছেরই বাণিজ্য হয়। তবে এই সমস্ত চাষের মাছ নিয়ে শঙ্কিত খোদ মৎস্য কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টজনরা। নিষেধাজ্ঞা এসেছে এই পদ্ধতির চাষের ওপর। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিপজ্জনক এসব মাছ চাষ হচ্ছে নিকলী-কিশোরগঞ্জ সড়কের পাশে ফিসারিগুলোতে

কৃষিজমি খনন করে গড়ে তোলা হয়েছে প্রায় দুই শতাধিক মৎস্য খামার। প্রতিটি মৎস্য খামারের ওপর রয়েছে মুরগির শেড। শেডে থাকা সেই মুরগির বিষ্ঠা সরাসরি ব্যবহার হচ্ছে মাছের খাবার হিসেবে। এখান থেকে বছরে প্রায় ১০০ কোটি টাকারও বেশি মাছ উৎপাদন হচ্ছে। মুরগির জন্য অ্যান্টিবায়োটিকসহ অন্যান্য উপাদান ব্যবহারেরও অভিযোগ রয়েছে এসব খামারে। বিষ্ঠা মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে ঢুকে দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার শঙ্কা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়াও এখানকার মৎস্য খামারের জন্য গাজীপুর থেকে ট্রাকে করে মুরগির বিষ্ঠা আনা হচ্ছে মাছের খাবার হিসেবে। রাস্তার পাশে এগুলো ফেলে রাখায় দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে পথচারীদের।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীরা বলছেন, আমাদের প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে আসা যাওয়া করতে হয়। গন্ধে নাক-মুখ বন্ধ করে আসতে হয়। এতে দম বন্ধ হয়ে আসে। বেশ কিছুদিন আগেও অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল তখন কয়েকদিন বন্ধ থাকলেও পুনরায় আবারও চলছে। মুরগি বিষ্ঠার কারণে মাছি-মশা বংশবিস্তার করছে এলাকায় অসুস্থ লোকের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বিষ্ঠা সরাসরি পানিতে চলে যাচ্ছে যা মাছ খেয়ে বড় হচ্ছে। এতে বিভিন্ন রোগ নিয়ে মাছ বড় হচ্চে পরবর্তীতে তা আবার মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে যাচ্ছে। আগে এসব জমিতে ধান চাষ হলেও এখন সব জমি ফিশারি হয়ে যাচ্ছে। এখানকার মানুষজন ফিসারিতে মাছ চাষে ঝুঁকছে। স্কুলের শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন এখান দিয়ে আসা যাওয়া করতে সমস্যা হচ্ছে। প্রায় সময় অসুস্থ হয়ে পড়ে তারা। কিশোরগঞ্জ সদর-নিকলী সড়ক হওয়ায় প্রতিদিন কয়েক হাজার গাড়ি চলাচল করে। রাস্তার পাশে ময়লার বস্তা ফেলে রাখায় নষ্ট হচ্ছে চলাচলের প্রধান এই সড়ক।

খামারিদের বক্তব্য, জনস্বাস্থ্যের ক্ষতির বিষয়টি মানতে নারাজ এখানকার খামারিরা। এভাবে মুরগির শেডের নিচে মাছ চাষ করতে তেমন কোনো নিষেধাজ্ঞাও আসেনি বলছেন তারা। একই সাথে দুটি চাষ একসঙ্গে হওয়ায় খরচ কম লাভ বেশি থাকায় নতুন আরও খামারি ঝুঁকছেন এ পেশায়। বাইরে থেকে যে বিষ্টা আনা হয় পরবর্তীতে রাস্তার পাশে ফেলে রাখা হয় শুধু এইটা ক্ষতিকর। সরাসরি যে বিষ্টা মাছ খেয়ে বড় হচ্ছে তা তেমন ক্ষতিকর না।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, এই পদ্ধতিতে চাষের ব্যাপারে একসময় মৎস্য অধিদপ্তর পরামর্শ দিলেও পরবর্তীতে গবেষণায় জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতি হওয়ায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। একা নয় সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই চাষ থেকে খামারিদের ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা সুভাষ চন্দ্রপ্রতি বলেন, আমরা সবসময় এই বিষয়টির ওপর নজরদারি করছি। যেহেতু এভাবে মাছ চাষ পরিবেশগত সঠিক নয়, তাই খামারিদের এই প্রক্রিয়া থেকে সরে আসতে বলছি। সরকারিভাবে কোনো রেজিস্ট্রেশন দিচ্ছি না। দ্রুত এই খামারগুলো বন্ধের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি।

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

ড. ইউনূস-মোদি বৈঠক নিয়ে বিএনপির প্রতিক্রিয়া

হেফাজত আমিরের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

হাফেজ্জী হুজুরের ছোট ছেলে মাওলানা আতাউল্লাহ মারা গেছেন

সন্তানের মুখ দেখা হলো না নয়নের

বাঁশঝাড়ে পড়েছিল কার্টন, খুলতেই মিলল নারীর মরদেহ

চিত্রনায়িকা পরীমনির বিরুদ্ধে জিডি

বিমসটেকের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিল বাংলাদেশ

ছোট ভাইয়ের হাতে বড় ভাই খুন

এপ্রিলের মধ্যে এনসিপির জেলা-উপজেলা কমিটি : সারজিস

‘মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ পোস্টে ফ্যাসিবাদের দোসররা ঘাপটি মেরে আছে’ 

১০

জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে কটূক্তি, আ.লীগ নেতাকে বেধড়ক পিটুনি

১১

শনিবার থেকে যেসব এলাকায় থেমে থেমে বৃষ্টি, হবে বজ্রপাতও

১২

ড. ইউনূসকে যেসব পরামর্শ দিলেন মোদি

১৩

বীর মুক্তিযোদ্ধা কানুর বাড়িতে হামলা

১৪

ঈদে দাওয়াত দিয়ে এনে জামাইকে গণধোলাই

১৫

সেভেন সিস্টার্স নিয়ে ড. ইউনূসের মন্তব্যে এবার মুখ খুললেন মোদি

১৬

হাওরের গাছে ঝুলছিল সবজি বিক্রেতার লাশ 

১৭

‘আমার সব শেষ হয়ে গেল’

১৮

আট সন্তান থাকতেও ৯০ বছরের বৃদ্ধার জায়গা খোলা আকাশের নিচে

১৯

চুরি করতে গিয়ে পোশাক ও ছবি ফেলে গেল চোর

২০
X