চট্টগ্রামে সড়ক দুর্ঘটনার দুই দিন পর এবার না ফেরার দেশে চলে গেলেন কলেজছাত্রী তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা। শুক্রবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অ্যানেস্থেসিয়া অ্যান্ড ইনটেনসিভ কেয়ার বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. হারুন-উর-রশিদ। তিনি বলেন, দুপুর ১২টার দিকে তাসনিয়া ইসলাম প্রেমাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
এর আগে বুধবার (২ এপ্রিল) সকালে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার পর থেকে প্রেমা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রেমা মাথা, পাঁজর ও পায়ে আঘাত পেয়েছে। পাঁজর ও পায়ে ফ্রাকচার হয়েছে। লাইফ সাপোর্টে কৃত্রিমভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস দেওয়া হয়েছিল।
বুধবার সকালে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে কক্সবাজারগামী মাইক্রোবাসের সংঘর্ষ হয়। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি জাঙ্গালিয়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন মাইক্রোবাসে থাকা প্রেমার বাবা রফিকুল ইসলাম (৪৮), মা স্ত্রী লুৎফুন নাহার (৩৭), বোন লিয়ানা ও ফুফাতো বোন তানিফা ইয়াসমিন। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান প্রেমার আরেক বোন আনিশাও।
সড়ক দুর্ঘটনায় ওই পাঁচজন ছাড়া মাইক্রোবাসে থাকা নিহত অন্যরা হলেন- আরাধ্য বিশ্বাসের বাবা দিলীপ বিশ্বাস (৪৩) ও মা সাধনা মণ্ডল (৩৭), মামা আশীষ মণ্ডল (৫০) ও দিলীপ বিশ্বাসের সহকর্মী মোক্তার আহমেদ (৫২) এবং মাইক্রোবাসের চালক ইউছুফ আলী।
তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা ঢাকা কমার্স কলেজের ছাত্রী ছিলেন। রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা ও কলেজছাত্রী তাসনিয়া ইসলাম প্রেমা পরিবারের সঙ্গে বেড়াতে যাচ্ছিলেন কক্সবাজার। একই মাইক্রোবাসে এ যাত্রায় সঙ্গে ছিলেন বাবা রফিকুল ইসলাম শামীমের সহকর্মী দিলীপ বিশ্বাস ও তার পরিবার। পরিকল্পনা ছিল কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে সবাইকে নিয়ে ঘুরবেন এবং ঈদের আনন্দ উপভোগ করবেন; কিন্তু এই আনন্দভ্রমণ পরিণত হয়েছে বিষাদে। কক্সবাজার যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় রকিফুল ও দিলীপের পরিবারসহ ১০ জন মারা গেছেন। ভাগ্যক্রমে বেঁচে ছিলেন প্রেমা ও আরাধ্য। সর্বশেষ প্রেমাও চলে গেলেন।
মন্তব্য করুন