গরুর ব্যবসার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এক প্রবাসীর দুসম্পর্কীয় আত্মীয়ের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ওই প্রবাসী বায়েজিদ বোস্তামী থানায় মামলা করেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম হাজি আব্দুর রহিম। তিনি চট্টগ্রামের বায়েজীদ বোস্তামী থানার সারাং বাড়ি মধ্যম কুলগাঁওয়ের বাসিন্দা। তিনি ওই প্রবাসীর দুসম্পর্কীয় মামা।
ভুক্তভোগীর নাম শাহাজাহান। তিনি একজন বাহরাইন প্রবাসী। তিনি চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ থানার ৭নং পশ্চিম ষোলশহরের আব্দুর রশিদের ছেলে।
অভিযোগে শাহজাহান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের দেশ বাহরাইনে ১৭ বছর প্রবাসে থেকে ২০২১ সালের মে মাসে দেশে আসি। ব্যবসার উদ্দেশে নিলফামারী জেলা থেকে ৭৬টি গরু বাছুর ক্রয় করি। গরুগুলোকে পরিচর্যা, দেখাশোনা ও লালনপালন করে বাজারজাত করতে দুসম্পর্কীয় মামা হাজী আব্দুর রহিমের সঙ্গে আলাপ হয়।বালুছড়া খন্দকিয়া বাজারের পার্শ্বে কার্টন ফ্যাক্টরির সঙ্গে লাগানো তার মালিকানাধীন খামারে গরু রাখতে বলেন আব্দুর রহিম। ২০২২ সালের জুন মাসে নিলফামারী থেকে ২টি ট্রাকে করে ২০টি গরু চট্টগ্রামে তার খামারের নিয়ে রাখি।
শাহজাহান আরও বলেন, হাজি আব্দুর রহিমের সঙ্গে আমার চুক্তি হয় ২০টি গরু আমি ১৯ লাখ টাকায় বিক্রি করব। এর বেশি যা দাম পাবে দালাল হিসেবে আব্দুর রহিম পাবে। কিন্তু পরের দিন আমি খামারে গিয়ে দেখি সেখানে কোনো গরু নেই। এ বিষয়ে জানতে চাইলে রহিম আমাকে জানান, তিনি গরুগুলো বিক্রি করেছেন, সন্ধ্যায় আমাকে টাকা দেবেন।
এসময় শাহজাহান বলেন, কিন্তু সন্ধ্যা পার হয়ে রাত হলেও আমাকে টাকা দেয়নি। আজ-কাল দেব বলে কালক্ষেপণ ও হয়রানি করতে থাকে। পরে আত্মীয়স্বজনের হস্তক্ষেপে কয়েকবারে মোট উনিশ লাখ টাকার মধ্যে নয় লাখ পঁচাত্তর হাজার টাকা পরিশোধ করেন।
শাহাজাহান আরও বলেন, বাকি টাকা চাইতে গেলে তিনি আমাকে মারধর ও হত্যাচেষ্টা করেন। আমাকে হত্যাচেষ্টা ও আমার অর্থ আত্মসাতের বিষয়ে থানায় মামলা করি।
অভিযোগের বিষয়ে কালবেলার সঙ্গে কথা হয় হাজী আব্দুর রহিমের। তিনি তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়টি মিথ্যা বলে মন্তব্য করেন। এছাড়াও শাহজাহানের সঙ্গে তার কোনো ব্যবসায়িক সম্পর্ক ছিল না বলেও দাবি করেন।
তবে থানার অভিযোগে ৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ থাকলেও, জিডিতে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে বায়েজিদ বোস্তামী থানার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই সোহেল রানা কালবেলাকে বলেন, শাহজাহানের টাকা আত্মসাতের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি মামলা হয়েছে। মামলাটির তদন্ত প্রক্রিয়াধীন। এছাড়াও চলমান বিষয়টি আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত বিরোধ হওয়ায় তা বাদী-বিবাদীদের আদালতের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি করার জন্য বলা হয়েছে।
মন্তব্য করুন