হ্রদ-পাহাড়ের শহর রাঙামাটি ও মেঘের রাজ্য সাজেকের সৌন্দর্য উপভোগে প্রতি বছর ঈদের ছুটিতে হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন। তবে এই বছর এক সাজেক ছাড়া রাঙামাটির অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রে প্রত্যাশিত দর্শনার্থীর আগমন ঘটেনি।
রাঙামাটি শহর ও শহরের আশপাশের পর্যটন স্পটগুলোতে বৃষ্টির কারণে পাহাড়ি ঝরনায় যৌবন ফিরেছে। এতে শুভলং ঝরনা, ঘাগড়া ঝরনায় পর্যটকের পদচারণা বেড়েছে। পাশাপাশি কাপ্তাই হ্রদ, ঝুলন্ত সেতু, পলওয়েল পার্ক, কাপ্তাই আসামবস্তী সড়কসহ রাঙামাটির টেক্সটাইল মার্কেটগুলোতে তাঁতে বোনা বাহারি রং ও ডিজাইনে পোশাক এবং বাহারি স্থানীয় পণ্য কিনতে দেখা গেছে পর্যটকদের। অন্যান্য বারের চেয়ে পর্যটক কিছুটা কম বলে দাবি রাঙামাটি হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীদের।
রাঙামাটি আবাসিক হোটেল মালিক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মোস্তফা কালাম উদ্দিন জানিয়েছেন, এবার ঈদের ছুটিতে পর্যটক এসেছে। তা প্রত্যাশার চেয়ে কম। রাঙামাটির হোটেল-মোটেলগুলোতে ৫০ শতাংশ রুম বুকিং রয়েছে।
এদিকে মেঘের রাজ্যখ্যাত সাজেকের চিত্র কিছুটা ভিন্ন। গতকাল বুধবার পর্যন্ত সাজেকের হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া বাকি সব কটেজ, রিসোর্ট শতভাগ বুকিং রয়েছে। ঈদের পর দিন মঙ্গলবার সাজেকের দুই আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্র করে উত্তেজনা ও গোলাগুলির ঘটনায় একজন নিহত হলে সেদিন পর্যটকের চলাচলে কিছুটা বাধা সৃষ্টি হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর কড়াকড়িতে বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। যার ইতিবাচক প্রভাব পর্যটকদের ওপর পড়ছে না বলে জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা।
সাজেক কটেজ মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানিয়েছেন, সাজেকে ঈদের ছুটি শুরু থেকে পর্যটকের চাপ রয়েছে। গতকাল একটু বেশি চাপ দেখা গেছে। প্রায় শতভাগ কটেজ, রিসোর্ট বুকিং হয়ে গেছে। উপজেলা নির্বাচন কেন্দ্র করে যে উত্তেজনা চলছে, তার প্রভাব সাজেকের পর্যটকদের ওপর পড়েনি। প্রশাসনের কাছে আহ্বান জানাব, নিরাপত্তা ব্যবস্থা যাতে আরও জোরদার করা হয়।
বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিরীন আক্তার বলেন, বাঘাইহাটে আঞ্চলিক দলগুলোর মধ্যে যে উত্তেজনা চলছে, যার প্রভাব এখনো পর্যন্ত পর্যটকদের ওপর পড়েনি। পর্যটকদের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তৎপর রয়েছেন।
সাজেকে প্রায় ১৩০টি কটেজ ও রিসোর্ট রয়েছে। এতে সাড়ে তিন হাজারের মতো পর্যটক রাতযাপন করতে পারে। রাঙামাটি শহরে প্রায় ৫৫টি হোটেল-মোটেল রয়েছে, যাতে প্রায় পাঁচ হাজার পর্যটক রাতযাপন করতে পারে। এ ছাড়া কাপ্তাই হ্রদে ১২টি হাউস বোট এবং শহরের আশপাশে ১৭টি রিসোর্ট রয়েছে।