প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলাভূমি সিলেট। সারা বছরই দেশ-বিদেশের হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসেন সিলেটে। তবে চলতি বছরের শুরুর দিক থেকেই সিলেটের বিভিন্ন পর্যটন এলাকায় তুলনামূলক কমতে থাকে পর্যটক। দফায় দফায় বন্যা, রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসা-বাণিজ্যেও ধস নামে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভাঙা রাস্তাঘাট, পর্যটন স্পটগুলো থেকে পাথর চুরি, নিরাপত্তার অভাব, অতিরিক্ত ভাড়া, স্যানিটেশন ব্যবস্থা না থাকায় পর্যটকরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। সর্বোপরি সিলেটের পর্যটনকেন্দ্রগুলো মাজার কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। সম্প্রতি বিভিন্ন মাজারে হামলার ঘটনায় সিলেটে আসতে আস্থা হারিয়েছেন পর্যটকরা।
পাহাড়, টিলা আর দিগন্ত বিস্তৃত চা বাগান যেন সিলেটকে ঢেকে রেখেছে সবুজ চাদরে। হজরত শাহজালাল ও হজরত শাহপরাণ (রহ.)সহ ৩৬০ আউলিয়ার পুণ্যভূমি এবং সিলেটের গোলাপগঞ্জের ঢাকা দক্ষিণে শ্রীচৈতন্যের তীর্থস্থান সিলেটকে দিয়েছে আলাদা মর্যাদা। সিলেটে রয়েছে গ্যাস আর তেলের মতো প্রাকৃতিক সম্পদ। এখানে জন্মেছেন মরমি কবি হাসন রাজা, রাধারমণ দত্ত, আরকুম শাহ, দুরবীন শাহ ও শাহ আব্দুল করিমের মতো সাধকরা।
সিলেট নগর ও পার্শ্ববর্তী বিমানবন্দর সড়কের দুপাশে রয়েছে সিলেটের প্রথম চা বাগান মালনীছড়া। বিমান থেকে নেমে সিলেটের প্রবেশমুখে এ চা বাগান পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। এ ছাড়া লাক্কাতুরা চা বাগান, কালাগুল, গুরজান, বাইশটিলা, খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের বারবার টানে।
সীমান্তবর্তী পর্যটন উপজেলা গোয়াইনঘাটে রয়েছে চারটি পর্যটনকেন্দ্র জাফলং, রাতারগুল, পান্তুমাই ও বিছনাকান্দি। পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ বিছনাকান্দি। মেঘালয় পাহাড়ের পাদদেশে সাত পাহাড়ের মিলনমেলায় স্বচ্ছ পানি ও সাদা পাথরের লুনি নদীর সীমান্তে বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট। একসময় এর স্বচ্ছ পানি-পাথরের মেলবন্ধনে পর্যটকদের প্রচুর টানত। সেই পাথরে এখন পাথরখেকোদের কালো থাবা।
দীর্ঘদিন ধরে পাথর লুট হলেও সরকার পতনের সুযোগে কয়েক দিনের মধ্যেই লুট করা হয়েছে কয়েক কোটি টাকার পাথর। লুট হওয়ায় আগের সৌন্দর্য হারিয়েছে বিছনাকান্দি পর্যটন স্পট।
সিলেটের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শের মাহবুব মুরাদ কালবেলাকে বলেন, সবকিছু স্থিতিশীল হচ্ছে। পাথর চুরি বা মাজারে হামলার দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। এটি আশা করি আর হবে না। পাথর চুরির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা হয়েছে। তদন্তে অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হবে।