ঈদের ছুটিতে প্রায়ই ফাঁকা হয়ে গেছে চট্টগ্রাম নগরী। তাই ঈদের লম্বা ছুটিতে মহানগরীতে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সিএমপির একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফাঁকা নগরীতে চুরি-ছিনতাই বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। ঈদের ছুটিতেও নগরীকে অপরাধমুক্ত রাখার জন্য সিএমপি সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে। নগরবাসীর নিরাপত্তায় ঈদের ছুটিতে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও দায়িত্ব পালন করবে তারা। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে থাকবে চেকপোস্ট, সেখানে সন্দেহজনদের তল্লাশি করা হবে। পাশাপাশি পুলিশের টহল টিমও নগরজুড়ে দায়িত্ব পালন করবে। তারা পুলিশের পাশাপাশি নগরবাসীকেও ছুটির সময় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
সিএমপির দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, পুলিশের পাশাপাশি নগরবাসীকেও নিজেদের নিরাপত্তা সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বাসা খালি রেখে যাওয়ার সময় অবশ্যই বাড়তি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা দরকার। এ জন্য বাসার দরজায় বেশি তালা ব্যবহার করা, নগদ অর্থ বা স্বর্ণালংকার ফাঁকা বাসায় রেখে না যাওয়া, সিসিটিভি ক্যামেরা ও অ্যালার্ম সিস্টেমের মতো প্রতিরোধমূলক ডিজিটাল নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া, আবাসিক এলাকায় রাতে অতিরিক্ত নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ করা, নতুন নিয়োগ দেওয়া নিরাপত্তাকর্মীদের এনআইডি কার্ড ও ছবি সংরক্ষণ করা, সন্দেহজনক কোনো ব্যক্তি ঘোরাফেরা করলে তাৎক্ষণিক স্থানীয় থানায় জানানো ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির মতো কোনো ঘটনা ঘটলে দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
একাধিক সূত্র জানায়, সিএমপির প্রতিটি থানা এবং পুলিশ ফাঁড়িকে নিরাপত্তা রক্ষায় কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব দল রোজার সময় বিভিন্ন মার্কেটের নিরাপত্তায় কাজ করেছে, তারা ঈদের ছুটিতেও মাঠে থাকবে। তাদেরও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব আবাসিক এলাকার বাসাবাড়ি খালি হয়ে যাবে, সেখানে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সাদা পোশাকে পুলিশ কাজ করবে।
থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা (ওসি) জানান, অপরাধীরা সুযোগের অপেক্ষায় থাকবে। তারা যেন কোনোভাবেই সুযোগ না পায়, তা আমাদের সবাইকে সমন্বিতভাবে নিশ্চিত করতে হবে। নগরীকে নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে রাখার জন্য সিএমপি সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে। এলাকায় সিটিজেন ফোরাম সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে বলা হয়েছে।
চান্দগাঁও থানার ওসি আফতাব উদ্দিন বলেন, চান্দগাঁওয়ে আবাসিক এলাকাগুলোয় নিরাপত্তা জোরদার করতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এবং যৌথবাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ মাঠে থাকবে। খুলশী থানার ওসি আফতাব হোসাইন বলেন, খুলশী আবাসিক এলাকা, দক্ষিণ খুলশী আবাসিক এলাকা, নাসিরাবাদ প্রোপাইটিজসহ সব আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুলিশ এবং যৌথবাহিনীর টহল জোরদারের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ মাঠে থাকবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) মাহমুদা বেগম বলেন, ঈদে আমরা ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছি। নগরীর প্রধান ঈদগাঁগুলোয় নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। নিরাপত্তা বাড়ানো হবে বন্ধ মার্কেট, অফিস-আদালত, ব্যাংকপাড়ায়। পোশাকধারী পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও পুলিশ সদস্যরা মাঠে কাজ করবেন। নগরী এবং নগরবাসীর জানমালের নিরাপত্তায় সিকিউরিটি প্যাট্রল টিম, নাইট প্যাট্রল টিম জোরদার থাকবে।
নগর পুলিশের উপকমিশনার (ক্রাইম) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, ঈদে লম্বা ছুটিতে ব্যাপক নিরাপত্তার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আমরা বেশি গুরুত্ব দিয়েছি বিনোদন কেন্দ্র ও ব্যাংকপাড়ায়। তা ছাড়া ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এলাকায়ও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পতেঙ্গা সৈকত ও পারকি সৈকতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আমাদের সদস্যরা ডিউটিতে থাকবেন।
মন্তব্য করুন