দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর আবার এলো খুশির ঈদ—ঈদুল ফিতর। দিনটি উপলক্ষে কালবেলার প্রিয় পাঠক, লেখক, বিজ্ঞাপনদাতা, এজেন্ট, শুভানুধ্যায়ীসহ সবাইকে জানাই প্রাণঢালা শুভেচ্ছা। ঈদুল ফিতর একাধারে আনন্দ-উৎসব ও ইবাদত। এই আনন্দ আল্লাহর অশেষ রহমত ও ক্ষমাপ্রাপ্তির, জাহান্নাম থেকে মুক্তির। এ আনন্দে নেই কোনো পাপ-পঙ্কিলতা। এ আনন্দে রয়েছে শুধুই সওয়াব ও পুণ্য। ইন্দ্রিয়ের কৃচ্ছ্রসাধনের মধ্য দিয়ে আত্মিক পরিশুদ্ধি অনুশীলনের সুযোগ নিয়ে আসে পবিত্র রমজান। পবিত্র রমজান আমাদের চিত্তশুদ্ধির যে শিক্ষা দিয়েছে, ঈদুল ফিতর হচ্ছে সেই শিক্ষা কাজে লাগানোর দিন। এ মাসে আমাদের সংযম সাধনার প্রতিফলন যেন বছরের বাকি দিনগুলোতেও ঘটে। পবিত্র ঈদুল ফিতর যে আনন্দের বার্তা বয়ে আনে, তা যেন সারা বছর সবার জীবনে অটুট থাকে। ঈদ মুসলমানদের জন্য শুধু একটি ধর্মীয় উৎসবই নয়, সম্প্রীতি-ভ্রাতৃত্ব শেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষও। এ উৎসবের মাধ্যমে প্রত্যেক মুসলমান একে অন্যের আরও কাছাকাছি আসে। শুধু মুসলমান নয়, অন্যান্য ধর্মের মানুষের সঙ্গেও আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। তাই বর্তমান ঈদকে শুধু ধর্মীয় কিংবা সামাজিক উৎসব হিসেবে বিবেচনা করা হয় না বরং ঈদ এখন সার্বজনীন আনন্দের নাম। সামাজিক উৎসবগুলোয় আমরা যেমন আনন্দে মাতি, তেমনি প্রতিটি ধর্মেই রয়েছে বিশেষ কিছু উৎসবমুখর দিন। সে উৎসবগুলোও আমাদের আনন্দে ভাসায়। ব্যবধান ঘুচিয়ে এক করে। আমাদের বাংলাদেশেও রয়েছে নানা ধর্ম, গোত্রের মানুষের বাস। ঈদ, পূজা, বড়দিন, বুদ্ধপূর্ণিমা, বৈসাবি, রাসপূর্ণিমা প্রভৃতি বিশেষ দিনে সবাই আনন্দে মেতে ওঠে। এসব ধর্মীয় উৎসব বৃহৎ অর্থে সামাজিক জীবনাচারেরই অনুষঙ্গ। এসব উৎসব উদযাপিত হয় সমাজের মধ্যেই। প্রতিটি উৎসব আমাদের একতা, ঐক্য, বড় ও মহৎ হতে শেখায়। ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহকে সাম্য, মৈত্রী, ঐক্য এবং ইসলামী ভ্রাতৃত্ববোধ শিক্ষা দেয়। এ আনন্দের দিনে প্রত্যেক মুসলিম তার সামাজিক অবস্থান ভুলে যায় এবং ভ্রাতৃত্ববোধের পর তৃপ্তিতে একে অন্যকে আলিঙ্গন করে। পার্থক্য থাকে না ধনী-দরিদ্র, শিক্ষিত-অশিক্ষিত, সবল-দুর্বল, বংশ গৌরব, কৌলীন্য ও মান-মর্যাদা। ঈদগাহে সারিবদ্ধভাবে জামাতের সঙ্গে ঈদুল ফিতরের দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ আদায়ের মধ্য দিয়ে প্রকৃতপক্ষেই সাম্যের অতুলনীয় বাস্তব দৃশ্যের চিত্র ফুটে ওঠে। ঈদের আগে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আট দেশে শুক্রবার আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মিয়ানমারে নিহত ব্যক্তির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়েছে। মিয়ানমার ছাড়াও প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে মারা গেছেন অন্তত ১০ জন। আরও দুঃখের বিষয় এই যে, রমজান মাসে ঈদের আগে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যুদ্ধবিরতির আহ্বান উপেক্ষা করেই দখলদার বাহিনী বেসামরিক লোকজনকে টার্গেট করে হামলা চালাচ্ছে। গত ১৮ মার্চে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ভেঙে ফেলার পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় ৮৯৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন ১ হাজার ৯৮৪ জন। ইসরায়েলের চলমান হামলায় এখন পর্যন্ত ৫০ হাজার ২০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১০ জন আহত হয়েছেন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা হাজারো মানুষকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ইসরায়েলের এই বর্বরোচিত আচরণের ঘৃণা জানানোর ভাষা আমাদের নেই। সারা বিশ্বের মানুষের মতো আমরাও শোকাহত। আমরা নিহতদের আত্মার শান্তিকামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারে সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানাচ্ছি। বিশ্বে ফিরুক শান্তি-সমৃদ্ধি। বিস্তৃত হোক সম্প্রীতি-সৌহার্দ্য। সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।
মন্তব্য করুন