সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় নারী নিপীড়ন, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণের পাশাপাশি চুরি-ছিনতাই-ডাকাতির বেপরোয়া প্রবণতা নিঃসন্দেহে গভীর উদ্বেগের। এ পরিস্থিতি শঙ্কা ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে জনমনে। প্রতিদিন সংঘটিত এসব ঘটনায় স্বভাবতই আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নাজুক অবস্থা এবং জনপরিসরে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি যে অত্যন্ত ঝুঁকিতে পড়েছে, সে চিত্রই প্রকাশিত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সরকারও বেশ তৎপর ও সোচ্চার আমরা জানি। এরই মধ্যে তারা বেশ কিছু উদ্যোগ-পদক্ষেপ নিয়েছে। অপারেশন ডেভিল হান্ট তাদের মধ্যে অন্যতম। যৌথ বাহিনীর এ উদ্যোগ চলমান। পাশাপাশি রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকারের একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম। এতকিছুর পরও নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি। সৃষ্টি হয়েছে এক নৈরাজ্যকর অবস্থা। এটি নিঃসন্দেহে ভীতিকর।
এদিকে রোববার গভীর রাতে সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা একটি বিশেষ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। সেখানে তিনি দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কঠোর হওয়ার বার্তা দিয়েছেন। পরিস্থিতির দ্রুত ইতিবাচক পরিবর্তন হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন সবাইকে। অবশ্য সারা দেশে ছিনতাই, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ব্যর্থতা হিসেবে চিহ্নিত করে তার পদত্যাগ দাবিতে এদিন মধ্যরাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
এরপর গতকাল সোমবার ডাকাতি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের তিনটি বিশেষায়িত ইউনিট শিগগিরই মাঠে নামবে বলে জানান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তিনি বলেন, ‘রাতে ছিনতাই বেড়েছে। দিনেও ছিনতাই বেড়েছে। ছিনতাই প্রতিরোধে বিশেষ একটি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, র্যাব ও অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট যৌথ অভিযান পরিচালনা করবে। এদিকে গতকাল আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল সরকারের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ব্যর্থতার দায় স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা আছে, এটা অস্বীকার করার কোনো কারণ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এমন যে আমাদের আত্মতুষ্টির সুযোগ নেই। তবে আমাদের চেষ্টা ও আত্মজিজ্ঞাসা আছে। ব্যর্থতা উত্তরণের জন্য আমাদের প্রচণ্ড চেষ্টা আছে, তাড়না আছে।’
সরকারসংশ্লিষ্টদের এসব প্রচেষ্টা যেন সফল হয় সেই কামনা যেমন সবার রয়েছে, একই সঙ্গে মানুষের মধ্যে জিজ্ঞাসা রয়েছে কেন এত উদ্যোগ-পদক্ষেপের পরও জননিরাপত্তা ইস্যুর উন্নতি হচ্ছে না? প্রশ্ন উঠছে, পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা; এমনকি সরকারের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও।
আমরা মনে করি, সমাজে বিরাজমান পরিস্থিতি মোকাবিলা ও নিয়ন্ত্রণ অবশ্যই সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব। তবে এ ক্ষেত্রে আপামর মানুষের দায়িত্বও কম নয়। অর্থাৎ সামাজিক অপরাধ বেড়ে গেলে এটা নিয়ন্ত্রণ যেমন রাষ্ট্রের দায়িত্ব; একই সঙ্গে জরুরি এর বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা। সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে ঐক্যভাব গড়ে তোলা। এরই মধ্যে ছিনতাই-ডাকাতির বেশ কিছু ঘটনায় মানুষের মধ্যে এ প্রবণতা দেখা গেছে। তারা সবাই মিলে প্রতিরোধ করেছে, যা খুবই ইতিবাচক। এ ছাড়া গত রোববার দেশব্যাপী বিভিন্ন জায়গায় ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদ এবং নারী-শিশুসহ সবার নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা যে বিক্ষোভ-আন্দোলন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছে, তা আশাজাগানিয়া। আমরা চাই, রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজবিরুদ্ধ সব অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে উঠবে এবং এর মধ্য দিয়েই প্রতিহত হবে অপশক্তি।
মন্তব্য করুন