মাস্টারদা সূর্য সেন ব্রিটিশবিরোধী স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম নেতা। সংক্ষেপে সূর্য সেন নামে অধিক পরিচিত। তবে মাস্টারদা নামে সহযোদ্ধাদের কাছে পরিচিত ছিলেন। মাস্টারদা ১৮৯৪ সালের ২২ মার্চ চট্টগ্রামের রাউজান থানার নোয়াপাড়ায় দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯১৬ সালে বহররমপুর কৃষ্ণনাথ কলেজের ছাত্র থাকাকালে সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হন। বিপ্লবীদের গোপন ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত কলেজটির অধ্যাপক সতীশচন্দ্র চক্রবর্তীর সান্নিধ্যে আসেন। যুক্ত হন বিপ্লবী যুগান্তর দলে।
সূর্য সেন ১৯১৮ সালে শিক্ষাজীবন শেষ করে চট্টগ্রামে এসে গোপনে বিপ্লবী দলে যোগ দেন। ১৯২০ সালে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হলে অনেক বিপ্লবীর মতো তিনিও যোগ দেন। মহাত্মা গান্ধী ১৯২২ সালে অসহযোগ আন্দোলন প্রত্যাহার করলে বিপ্লবী দলগুলো আবার সক্রিয় হয়ে ওঠে। ইংরেজবিরোধী আন্দোলনের অংশ হিসেবে চট্টগ্রামের অস্ত্রাগার লুণ্ঠন, জালালাবাদে ইংরেজদের সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধ ও ইউরোপীয় ক্লাব আক্রমণে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বিপ্লবী উপাধি লাভ করেন।
১৯৩৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি অস্ত্রসহ সূর্য সেন ধরা পড়েন। ভারতের তৎকালীন দণ্ডবিধির ১২১/১২১-এ ধারায় স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে তার বিচার শুরু হয়। ১৯৩৩ সালের ১৪ আগস্ট তার মামলার রায় ঘোষণা করে ব্রিটিশ সরকার। ১৯৩৪ সালের ১২ জানুয়ারি আগ্নেয়াস্ত্র রাখার অপরাধে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।