পৃথিবীর ইতিহাসে জোয়ান অব আর্ক এক প্রেরণার নাম। তিনি পরাধীন ফ্রান্সের মুক্তিদাত্রী বীরকন্যা এবং রূপকথাতুল্য এক নেত্রী। ইংরেজদের সঙ্গে শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধের সময় তিনি ফ্রান্সের সৈন্যবাহিনীকে নেতৃত্ব দেন। তিনি মিউজ নদীর তীরে দঁরেমি গ্রামের এক সাধারণ কৃষক পরিবারে ১৪১২ সালের ৬ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ফ্রান্স তখন ইংরেজদের শাসনাধীন। ইংল্যান্ডের রাজা পঞ্চম হেনরির পুত্র ষষ্ঠ হেনরি ফ্রান্সের সিংহাসনে আরোহণ করলে ফ্রান্সের রাজা সপ্তম চার্লস পালিয়ে যান। কথিত আছে, মাত্র ১৩ বছর বয়সে মাঠে ভেড়ার পাল চরানোর সময় জোয়ান দৈববাণী শুনতে পান যে, তাকে মাতৃভূমির স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার ও ফ্রান্সের প্রকৃত রাজাকে ক্ষমতায় পুনর্বহাল করার জন্য প্রধান ভূমিকা পালন করতে হবে। জোয়ান সাদা পোশাক পরিধান করে একটি সাদা ঘোড়ায় চড়ে পঞ্চক্রুশধারী তরবারি হাতে চার হাজার সৈন্য নিয়ে প্রথম আক্রমণেই জয়লাভ করেন। এরপর তাদের একের পর এক সাফল্য আসতে থাকে। জোয়ানের মাধ্যমে ফ্রান্স-ইংল্যান্ডের মধ্যকার শতবর্ষব্যাপী যুদ্ধের অবসান ঘটে। ফ্রান্সের স্বাধীনতার পর ইংরেজরা তাকে বিশ্বাসঘাতকদের সহযোগিতায় আটক করতে সক্ষম হয়। তারপর এক ইংরেজ পাদ্রির অধীনে তার বিচারকাজ চলে। বিচারে জোয়ানের কার্যকলাপকে প্রচলিত ধর্মমতের বিরোধী আখ্যা দিয়ে তাকে ‘ডাইনি’ সাব্যস্ত করে ১৪৩১ সালে জীবন্ত পুড়িয়ে মারা হয়।