ব্যাটিং, বোলিং, ফিল্ডিং—রাজনীতির সব ফরম্যাটে যেন ঝোড়োগতিতে খেলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প! নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, দায়িত্ব নিলে এক দিনের মধ্যে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধ করবেন। অথচ ২০ জানুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ভলোদিমির জেলেনস্কিকে ‘আক্রমণ’ করেই যাচ্ছেন। কখনো ইউক্রেনের এই প্রেসিডেন্টকে ‘স্বৈরশাসক’ কখনো বা অজনপ্রিয় বলছেন। সবশেষ শুক্রবার হোয়াইট হাউসে কূটনৈতিক বৈঠকে তাকে তুলাধুনা করে ছাড়েন ট্রাম্প। শেষ পর্যন্ত ওভাল অফিস থেকে তাকে বের করে দিয়েছেন! রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফোনালাপের পর মূলত মস্কোর সঙ্গে জোরালো সম্পর্কের দিকে ঝুঁকে পড়েন ট্রাম্প। তাদের ওই দীর্ঘ আলাপের পর যেন জেলেনস্কির বিরুদ্ধে বিদ্বেষ উগরে দিচ্ছেন তিনি। সবশেষ কূটনৈতিক বৈঠক থেকে একপ্রকার বের করে দেওয়ার পর মার্কিন সিনেটের ডেমোক্র্যাট নেতা চাক শুমার বলছেন, ট্রাম্প যে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের হাতের ইশারায় খেলছেন, এটা তারই প্রমাণ। তিনি বলেন, ট্রাম্প ও ভ্যান্স (ভাইস প্রেসিডেন্ট) পুতিনের নোংরা কাজ করছেন। ডেমোক্র্যাটরা কখনোই স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রের জন্য লড়াই থামাবে না।
হাউস ডেমোক্রেটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠককে ‘আতঙ্কজনক’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, এটি ‘কেবল নৃশংস স্বৈরশাসক ভ্লাদিমির পুতিনকে আরও উৎসাহিত করবে।’
কানেক্টিকাটের সিনেটর ক্রিস মারফির মতে, পুতিনকে সুবিধা দেওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কিকে বিব্রত করার জন্য বৈঠকে ‘পরিকল্পিত আগ্রাসন’ চালানো হয়েছে। তিনি বলেন, এটা একটা বিব্রতকর ব্যাপার ছিল। এটা একটা ঘৃণ্য কাজ ছিল। আপনারা যা দেখেছেন তা হলো, বিশ্বে মার্কিন শক্তি ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। সবাই দেখছে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মস্কোর এক নৃশংস স্বৈরশাসকের ‘ল্যাপডগ’ হয়ে উঠছেন। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির চেয়ে ট্রাম্প রাশিয়ার কর্তৃত্ববাদী প্রেসিডেন্টের প্রতি বেশি সহানুভূতি ও নীতিগত ঐক্য দেখাচ্ছেন। ট্রাম্প জেলেনস্কিকে নির্বাচন ছাড়াই ক্ষমতায় থাকা একজন স্বৈরশাসক বলেছেন, তার গণতান্ত্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অথচ প্রতিবেশী দেশে আক্রমণের সঙ্গে জড়িত প্রকৃত স্বৈরশাসক পুতিনকে তিনি ছাড় দিয়েছেন।
ট্রাম্পের এসব কথায় রাশিয়ানরাও যে বিস্মিত, সেটা প্রকাশ করতে তারা মোটেও লজ্জা পাচ্ছেন না। রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ও দেশটির সিকিউরিটি কাউন্সিলের সহ-চেয়ার দিমিত্রি মেদভেদেভ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘এই কথা যদি তিন মাস আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টের মুখ থেকে শুনতাম, তাহলে আমি উচ্চ স্বরে হেসে উঠতাম।’ এখন এসব দেখে বোধহয় ফুরফুরে পুতিন আছে খোশমেজাজে!
মন্তব্য করুন