শফিকুল ইসলাম
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫, ০৩:০৫ এএম
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৫, ১০:৩৪ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ

ঘরে-বাইরে ভোটের চাপ

সংসদ নির্বাচন
ঘরে-বাইরে ভোটের চাপ

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের তিন দিন পর শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বয়স এরই মধ্যে ৫ মাস ১০ দিন পেরিয়ে গেছে। শুরুর দিকে প্রায় সব দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে স্বাগত জানিয়ে যৌক্তিক সময়ের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার আহ্বান জানালেও দিন যত গড়াচ্ছে, সংস্কারে উদ্যোগী এবং ঐক্যের সন্ধানে থাকা এই সরকারের ওপর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য ঘরে-বাইরে বা দেশ-বিদেশে চাপও তত বাড়ছে। বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সন্তোষজনক না থাকা, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগে মন্দা, আর্থিক খাতের বিশৃঙ্খলা, প্রশাসনে অস্থিরতা, পরাজিত শক্তির নানা অপকৌশলসহ বিভিন্ন কারণে সরকারের ওপর দ্রুত নির্বাচন দেওয়ার চাপ জোরালো হচ্ছে।

রাজনৈতিক দলগুলো বলছে, নির্বাচন দ্রুত না হলে এই সরকার বিতর্কিত হবে এবং বিশৃঙ্খলা বাড়বে। দেশের অন্যতম বড় দল বিএনপি মনে করে, সাম্প্রতিক বিভিন্ন দুর্ঘটনার পেছনে রয়েছে বিগত ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসরদের ষড়যন্ত্র’। ফলে নির্বাচনে যত দেরি হবে, এমন সমস্যা তত বাড়বে।

শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকেও নির্বাচনের চাপ বাড়ছে। ভারতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত এরিক গারসেটি সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ডব্লিউআইওএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত—দুই দেশই যত দ্রুত সম্ভব বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন দেখতে চায় এবং তা বাংলাদেশকে তার নতুন অধ্যায় শুরু করতে সহায়তা করতে পারে। বৃহস্পতিবার ডব্লিউআইওএনের অনলাইন সংস্করণে সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ হয়। এর আগে গত সোমবার ভারতের সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী এক অনুষ্ঠানে বলেন, দুই দেশের সার্বিক সম্পর্ক তখনই স্বাভাবিক হবে, যখন সেখানে (বাংলাদেশে) নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় আসবে।

এদিকে বিভিন্ন মহলের দাবি থাকলেও এখন পর্যন্ত ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ ঘোষণা করেনি অন্তর্বর্তী সরকার। যদিও গত বছর বিজয় দিবসে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, ২০২৫ সালের শেষ দিকে বা ২০২৬ সালের প্রথমার্ধের মধ্যে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা যায়। পরদিন এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তার আগে অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান গত ১৬ সেপ্টেম্বর বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, আগামী ১৮ মাসের মধ্যে যাতে নির্বাচন হতে পারে, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারগুলো সম্পন্ন করতে এই সরকারকে সমর্থনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এ ছাড়া গত ৯ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন সংস্কার সাপেক্ষ। সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবগুলো নিয়ে আমরা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করব। এই প্রক্রিয়ায় প্রবেশের পর রাজনৈতিক দলগুলোই ঠিক করবে কতটা সংস্কার চায়। ওই সংস্কারের মেয়াদ বা পরিধির ভিত্তিতে আমি মনে করি নির্বাচনের তারিখ ঠিক হবে।’

তবে চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব দাবি করে এ ব্যাপারে উদ্যোগ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছে বিএনপি। আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বলছে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষেই জাতীয় নির্বাচন হওয়া উচিত। তবে সংস্কার

যেন অনন্তকাল না হয়।

অন্যদিকে, দ্রুত নির্বাচন না হলে কর্মসূচির হুঁশিয়ারি দিয়েছে ১২ দলীয় জোট। অন্যান্য রাজনৈতিক দল, জোট ও ব্যবসায়িক সমিতিসহ বিশিষ্টজন বলছেন, যত দ্রুত সংসদ নির্বাচন হবে ততই ভালো। কেননা নির্বাচিত সরকার ও গণতন্ত্র সুসংহত না হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে না। এমন আলোচনার প্রেক্ষিতে সর্বশেষ গত রোববার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, আগামী নির্বাচন সরকার এ যাবৎকালের সেরা করার পরিকল্পনা করছে, যাতে এটি গণতন্ত্রের একটি ঐতিহাসিক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে।

তবে কয়েকটি দল দ্রুত ভোটের জন্য সরকারকে চাপ দিলেও আওয়ামী লীগের সরকার পতনের আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বিপরীত অবস্থানে রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের মতো সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও তাদের উদ্যোগে নাগরিকদের নিয়ে গড়া জাতীয় নাগরিক পরিষদ সংবিধান পরিবর্তনের লক্ষ্যে আগে ‘গণপরিষদ’ নির্বাচন চায় বলে জানা গেছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের উচিত সিরিয়াসলি নির্বাচমুখী হওয়া। কিন্তু তারা সেটি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। ব্যতিক্রমী এই সরকার কতদিন দায়িত্ব পালন করবে, রাষ্ট্রের প্রয়োজনীয় সংস্কার কবে নাগাদ সম্পন্ন হবে, কবে নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা হবে—এ প্রশ্ন এখন সবার।

এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ গত রোববার বলেন, ‘আমাদের মূল ফোকাস জাতীয় নির্বাচন। জাতীয় নির্বাচনের আগে একটা রি-অ্যাকশন টাইম দিতে হবে। এমন ইভেন্ট আসা ঠিক হবে না, যা জাতীয় নির্বাচনকে ব্যাহত করে।’

সর্বশেষ গত সোমবার রাতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় স্থায়ী কমিটির নিয়মিত সভায় ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনসহ চলমান গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে আলোচনা হয়। এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘নির্বাচন বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য ছিল যে, এই বছরের শেষের দিকে অথবা পরবর্তী বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে… এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটিতে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমরা মনে করি, এত বিলম্বিত করার কোনো কারণ নেই। আমরা বারবার বলছি, নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই। এটা গণতন্ত্রের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা মনে করি, এই বছরের মাঝামাঝি সময়ে অর্থাৎ জুলাই-আগস্টের মধ্যেই নির্বাচন সম্ভব। এ কারণে আমরা সরকারকে আহ্বান জানাতে চাচ্ছি, নির্বাচন কমিশনকেও আহ্বান জানাচ্ছি এবং রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিও আহ্বান জানাচ্ছি—দেশের বৃহত্তর স্বার্থে এই বছরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য আমরা ব্যবস্থা নিতে পারি। যত বিলম্ব হচ্ছে, ততই রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা আগে সংসদ নির্বাচন চাই। কারণ, পুরো দেশ ও জাতির মূল ফোকাস হচ্ছে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ওপর।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দীন আহমদ বলেন, ‘বিএনপি চায় এ বছরের জুনের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন হোক। বাংলাদেশের জনগণ ভোট দিতে জানে। অতীতের প্রত্যেকটি সুষ্ঠু নির্বাচনে জনগণ সঠিকভাবে তাদের রায় দিয়েছে। জনগণের মতামতের প্রতিফলন সেখানে ঘটেছে। আশা করি, বর্তমান যে বিশৃঙ্খল অবস্থার মধ্যে আমরা আছি, এর অবসান হওয়া উচিত। সেজন্য দরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচন। আমরা ১৭ বছর সংগ্রাম করেছি গণতন্ত্রের জন্য, জনগণের ভোটাধিকারের জন্য।’

একই মত দেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির সদস্য বদরুল আলম চৌধুরী শিপলু। তিনি বলেন, ‘বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশের মানুষের সম্মতিতেই ক্ষমতায় এসেছে। আমরা একটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কথা বলছি, যাতে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনমতের প্রতিফলন ঘটতে পারে। যারাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত হবেন তারাই সরকার গঠন করবেন। সেটিই হলো গণতন্ত্র। আমরা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করাই বর্তমান সরকারের মূল দায়িত্ব।’

অবিলম্বে নির্বাচনের পক্ষে ১২ দলীয় জোটও। এই জোটের সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা বলেন, ‘স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তিনটি জাতীয় নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি, সেজন্য মানুষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যে গণতন্ত্র উত্তরণের পথ, সেটাকে তারা পূরণ করতে চায়। আমরা বলছি, প্রয়োজনীয় সংস্কার করুন; কিন্তু সেটা কতদিন? দেশের অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা ও দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে বুঝতে হবে স্থানীয় সরকার দেশ চালায় না; দেশ চালায় কিন্তু জাতীয় সংসদ। সুতরাং অবিলম্বে দেশের স্থিতিশীলতা ফেরাতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিকল্প নেই।’

তবে দীর্ঘদিন বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে রাজনীতি করা জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন নিয়ে তাড়াহুড়ো না করে প্রয়োজনীয় সংস্কার করার পক্ষে বলে জানিয়েছেন দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ। তিনি বলেন, ‘যেহেতু দেশের অধিকাংশ মানুষ চায় সংস্কার। আমরাও সেটির পক্ষে। তবে সংস্কার যাতে দীর্ঘায়িত না হয়। এখন শুধু সংস্কার কমিশনের পক্ষে সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। সেগুলো পর্যালোচনা করেই নির্বাচনের রোডম্যাপ হবে বলে আশা করি। আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। সময়মতোই আমরা আমাদের অবস্থান সম্পর্কে জানাব।’

জামায়াতের মতো ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশও প্রয়োজনীয় সংস্কারের পর নির্বাচন চায়। দলটির সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেন, ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কিছু সংস্কার করছে। তার মধ্যে রাষ্ট্র সংস্কার আছে। অনেকে সংস্কার চায় না, নির্বাচন চায়। আমরা চাই, আগে সংস্কার হবে, পরে নির্বাচন হবে। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই। না হলে ভালো ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্র হতে পারে না।’ নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সংস্কারের পরে নির্বাচন। যারা সংস্কারে বাধা দিচ্ছেন, তারা দীর্ঘ ১৬ বছর কোথায় ছিলেন?’

এদিকে সরকার আন্তরিক হলে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন সম্ভব বলে মনে করে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। দলটির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, ‘সরকারের পক্ষ থেকে দুটি সময়সূচির কথা বলা হয়েছে—একটি এ বছরের ডিসেম্বরে, আরেকটি সামনের বছরের জুনে। আমরা বলছি, এ দুটি সময় নির্ধারণ করবে সংস্কারের কী রূপরেখা হচ্ছে, সংস্কারের গতিপ্রকৃতির ওপর নির্ভর করে। আমরা মনে করি, সরকার যদি আন্তরিক হয়, এটা (নির্বাচন) ডিসেম্বরের মধ্যে সম্ভব। সংস্কারগুলো করে একটা গণঐক্যের ভিত্তিতে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব। তা না হলে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে এটা দু-এক মাস পেছালেও আমাদের কোনো আপত্তি নেই।’

ব্যবসায়ীদের সমিতি আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিও (এবিসিসিআই) চায় দ্রুত নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হোক। সংগঠনটির চেয়ারম্যান বিশিষ্ট ব্যবসায়ী গিয়াস আহমেদ বলেন, ‘দেশের অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতে অস্থিরতা বিরাজ করছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, সরকারও সামাল দিতে পারছে না। কেননা, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস গুণী ও অভিজ্ঞ মানুষ; কিন্তু সরকার পরিচালনায় দক্ষ নন। এজন্য অনেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ব্যর্থ করতে চাচ্ছে। তবে সেটি হতে দেওয়া ঠিক হবে না। সরকারের উচিত হবে, দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচন দিয়ে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা। এ ছাড়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে মনে হয় না। কারণ গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকার ছাড়া দেশের সামগ্রিক দুরবস্থার সমাধান হবে না। নির্বাচিত সরকার ক্ষমতায় থাকলে অনেক দিক থেকেই সংকট সমাধান হয়।’

এদিকে, জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্থা শারমিন বলেছেন, ‘আমরা অবশ্যই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ মনে করি; কিন্তু এ ক্ষেত্রে গণপরিষদ নির্বাচন একমাত্র গ্রহণযোগ্য উপায়। তবে গণপরিষদ নির্বাচন কী ও কেন, কীভাবে হতে পারে, প্রক্রিয়া কী হবে এবং আনুপাতিকে যাব নাকি ট্র্যাডিশনাল ফরম্যাটে যাব—এ বিষয়গুলো নিয়ে আলাপ-আলোচনা দল, মত ও পক্ষগুলোর সঙ্গে করতে পারি।’

এমন পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মনে করছেন, সরকারের উচিত সিরিয়াসলি নির্বাচনমুখী হওয়া। তিনি কালবেলাকে বলেন, ‘দায়িত্ব নেওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকারকে খুব বেশি সিরিয়াস দেখা যায়নি। সরকার একবার বলছে ২০২৫ সালের শেষে, আবার বলছে ২০২৬ সালের শুরুতে নির্বাচন দেবে। এত লম্বা সময়ের পরও নির্বাচনের সময়টা কনফার্ম করা যাচ্ছে না। ফলে রাজনৈতিক দলগুলোর মাঝে অনাস্থা ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে। আবার সরকারের কার্যক্রমেও কিন্তু বোঝা যায়নি যে, সরকার নির্বাচন দ্রুত করতে খুব আগ্রহী। অথচ সরকারের উচিত ছিল রাজনৈতিক দল এবং নাগরিকদের বোঝানো যে, তারা দ্রুত নির্বাচন দিতে চায়। আমি মনে করি সরকারকে খুব সিরিয়াসলি নির্বাচনমুখী হওয়া উচিত।’

কালবেলা অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
  • সর্বশেষ
  • জনপ্রিয়

বিমসটেক সম্মেলন / পররাষ্ট্রমন্ত্রী পযার্য়ের বৈঠক, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর

ট্রেবল স্বপ্নে বিভোর বার্সা, কোপা ফাইনালে রিয়াল চ্যালেঞ্জ

রাজনীতি থেকে অবসর নিচ্ছেন মোদি, শিবসেনার দাবি

ঋণের টাকা পরিশোধ কেন্দ্র করে প্রবাসীর পরিবারে ওপর হামলা

দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন টিউলিপ

মোটরসাইকেল-মাহিন্দ্রার সংঘর্ষে প্রাণ গেল দুই তরুণের

ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত মুশফিকের ঈদ উদযাপন, অতিথি ছিলেন যারা

মার্কিন শুল্কারোপের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, জানালেন প্রেস সচিব

প্রাইভেটকারের ধাক্কায় প্রাণ গেল মোটরসাইকেলের দুই আরোহীর

জাতিসংঘের ক্লিনিকে বোমা হামলা

১০

ইসরায়েলি হামলায় আরও ৭৭ ফিলিস্তিনি নিহত

১১

থাইল্যান্ডের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধান উপদেষ্টা

১২

গোপন বৈঠক থেকে শ্রমিকলীগ-ছাত্রলীগের ৫ নেতাকর্মী আটক

১৩

‘অস্বাস্থ্যকর’ ঢাকার বাতাস 

১৪

আজ থাইল্যান্ড যাচ্ছেন প্রধান উপদেষ্টা

১৫

আজ ঢাকার আবহাওয়া যেমন থাকবে

১৬

০৩ এপ্রিল : ইতিহাসের এই দিনে যা ঘটেছিল

১৭

০৩ এপ্রিল : আজকের নামাজের সময়সূচি

১৮

বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭% শুল্ক বসাল যুক্তরাষ্ট্র

১৯

যুদ্ধ প্রস্তুতি? ভারত মহাসাগরে ৬ মার্কিন বোমারু বিমান

২০
X