ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে সোচ্চার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রথম দিকে এর পেছনে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরোধী মনোভাব সামনে এলেও ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য প্রকাশ পায়। অবশেষে রাখঢাক না রেখে উচ্চাভিলাষী ট্রাম্প ইউক্রেনের খনিজ সম্পদের নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন। যুদ্ধবিরতির আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার স্বার্থে এ ইস্যুতে ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে খনিজসম্পদ চুক্তি নিয়ে প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছেছে। কিন্তু ইউক্রেনের কী খনিজ লাভে মরিয়া ট্রাম্প।
রয়টার্সসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইউক্রেনের খনিজসম্পদ বিশ্বব্যাপী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে বৈদ্যুতিক যানবাহন এবং পারমাণবিক চুল্লির ব্যাটারি উপাদান গ্রাফাইটের মজুত। এ ছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৩৪টি কৌশলগত খনিজ সম্পদ চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২২টি মজুত ইউক্রেনের।
বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ৫ শতাংশই ইউক্রেনের হাতে আছে বলে মনে করা হয়। ১৯ মিলিয়ন টন গ্রাফাইটের প্রমাণিত মজুত আছে। এটি ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
ইউরোপে যত লিথিয়াম মজুত আছে তার এক-তৃতীয়াংশই ইউক্রেনে। এখন যে ব্যাটারি তৈরি হয় তার গুরুত্বপূর্ণ উপাদান এটি। তিন বছর আগে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের আগে বিশ্বে যত টাইটানিয়াম উৎপাদন হতো তার ৭ শতাংশ আসত ইউক্রেন থেকে। এটি উড়োজাহাজ থেকে শুরু করে বিদ্যুৎকেন্দ্র পর্যন্ত সবকিছুতেই ব্যবহৃত হয়।
ইউক্রেনের ভূমিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিরল খনিজের মজুত আছে। ১৭টি উপাদানের এসব খনিজ অস্ত্র উৎপাদন, বায়ু টারবাইন, ইলেকট্রনিকসসহ আধুনিক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে কিছু খনি রাশিয়া দখল করেছে। ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী ইউলিয়া সভিরিদেঙ্কোর হিসাব মতে, অন্তত সাড়ে তিনশ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রাশিয়ান অধিকৃত এলাকায় আছে।
মন্তব্য করুন