প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাণভিক্ষার দাবিতে কলেজছাত্রীর অবস্থান কর্মসূচি

ইতিমা মন্ডল।
ইতিমা মন্ডল।ছবি : কালবেলা

খুলনার আযম খান সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রী বটিয়াঘাটা উপজেলার ঠিকরাবাদ গ্রামের নারায়ণ মন্ডলের মেয়ে ইতিমা মন্ডল প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রাণভিক্ষার দাবিতে আজ সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবস্থান কর্মসূচি নিয়েছেন।

এ ছাড়াও তিনি প্রধানমন্ত্রী বরাবর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।

অভিযোগে ইতিমা মন্ডল লিখেছেন, ‘আমি খুলনা জেলা শাখার সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক। আমার বাবা মানসিক রোগী, মা অত্যন্ত অসুস্থ। আমরা অত্যন্ত দরিদ্র। তিন বেলা খেতেও পারি না। খুলনার বটিয়াঘাটার ভয়ংকর সন্ত্রাসী, ভূমিদস্যু সুরঞ্জন সুতার লোলুপ দৃষ্টি পড়ে আমার ওপর। সরাসরি ও অন্য লোক দিয়ে কুপ্রস্তাব দিয়ে ব্যর্থ হয়। জাল দলিলের মাধ্যমে বটিয়াঘাটা এসিল্যান্ডের সহযোগিতায় অবৈধ রেকর্ড করে। আমাদের মাথা গোঁজার শেষ সম্বল বটিয়াঘাটা উপজেলায় ঠিকরাবাদ গ্রামের বসতবাড়ি ভিটামাটি সব দখল করে নিয়েছে। জমাজমি সংক্রান্ত মামলা তুলে না নিলে, আমাকে ও আমার পরিবার সদস্যদের হত্যা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে। বহু মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। ভারতে চলে না গেলে, সুরঞ্জন সুতার প্রকাশ্যে আমাকে ধর্ষণ করে হত্যা করবে এবং আমার পরিবার সদস্যদের পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে বেড়াচ্ছে। তার ভয়ে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বেড়াচ্ছি।

ইতিমা মন্ডল আরও লিখেছেন, এ ব্যাপারে লবনচরা থানায় মামলা করতে গেলে থানার কর্মকর্তারা চরম দুর্ব্যবহার করে তাড়িয়ে দিয়েছে। বারবার থানায় ধরনা দিয়ে গত বছরের ১৯ আগস্ট একটা সাধারণ ডায়েরি করেছি। ডায়েরি নং ৭৭৩ । গত পাঁচ মাসেও থানা পুলিশ এ পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি। খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলায় এক সময়ের হতদরিদ্র নারায়ণ সুতারের পুত্র সুরঞ্জন সুতার গত কয়েক বছরের ব্যবধানে সাব-রেজিস্ট্রার ও ভূমি অফিসে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে জাল দলিল তৈরি করে বহু ভিপি সম্পত্তি বিক্রি, নিরীহ মানুষের সম্পত্তির জাল দলিল তৈরি করে তাদের সম্পত্তি গ্রাস করে বিক্রি, চুরি, ডাকাতি, ভূমিদস্যুতা, চোরাচালান, মাদক ব্যবসা, এমনকি পিলার ব্যবসা করে শত শত কোটি টাকার পাহাড় গড়েছে।

ইতিমা মন্ডল লিখেছেন, আমার বাবা নারায়ণ মন্ডল ঠাকুরদাদা দশরথ মন্ডলের একমাত্র সন্তান। ঠাকুরদাদা দশরথ মন্ডল ২০০৯ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ঠাকুরদাদা দশরথ মন্ডলের মৃত্যু হলে বাবা নারায়ণ মন্ডল তার একমাত্র ওয়ারিশ হিসেবে বসতবাড়িসহ ভিটামাটি ৫৩ দশমিক ২৫ শতাংশ সম্পত্তির পৈতৃকসূত্রে মালিক হন। ২০১৬ সালে ওই ৫৩ দশমিক ২৫ শতাংশ বসতবাড়িসহ ভিটার জমি বাবা নারায়ণ মন্ডলের নামে নামজারি ও রেকর্ডভুক্ত হয়। খুলনার চিহ্নিত সন্ত্রাসী ভূমিদস্যু সুরঞ্জন সুতার পরিকল্পিতভাবে গোলাম সারওয়ার মল্লিক পিতা মৃত আকছের মল্লিক ১৪, জাহিদুর রহমান রোড, খুলনা-এর নামে জাল জালিয়াতির মাধ্যমে বেনামি ২টি জাল দলিল তৈরি করে। দলিল নং-২৬৪৫/৯২ তাং-১০/১১/১৯৯২ ও ২০৯১/২০২১ তারিখ-১১/৩/২০২১।

তিনি আরও বলেন, দশরথ মন্ডল ২০০৯ সালে মারা যাওয়ার পর কীভাবে ওই মৃত ব্যক্তি ২০২১ সালে জমি রেজিস্ট্রি করে দিলেন? নারায়ণ মন্ডলের নাম ২০১৬ সালে রেকর্ড থাকা সত্যে এসিল্যান্ড ও তার হেডক্লার্ক নাসিম মোটা অংকের বিনিময়ে ২০১৯ সালে বেআইনিভাবে গোলাম সারওয়ার মল্লিকের নামে রেকর্ড দেন। এই অবৈধ রেকর্ডের বিরুদ্ধে আমার বাবা নারায়ণ মন্ডল বটিয়াঘাটা এসিল্যান্ড অফিসে ১৫০ ধারার মামলা করেন। খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল মামলা বিচারাধীন (মামলা নং-১০৯১/১৪, তারিখ ২৮/৮/২০১৪) খুলনা বটিয়াঘাটা সহকারী জজ আদালত জাল দলিলের বিরুদ্ধে (মামলা নং-১৪৬/২০২০ ) ও বিজ্ঞ মহানগর হাকিম আদালতে মামলা ( মামলা নং-১৪৫/২২ সি.আর তারিখ-৫/৯/২০২২) বিচারাধীন থাকা অবস্থায় বটিয়াঘাটার এসিল্যান্ড মাসুদ ও হেডক্লার্ক নাসিম মোটা অংকের বিনিময়ে বেআইনিভাবে সুরঞ্জন সুতারের বেনামি গোলাম সারোয়ার নামে ১৫০ ধারা রায় দিয়ে, বাবা নারায়ণ মন্ডলের রেকর্ডিয় পৈতৃক সম্পত্তির রেকর্ড বাতিল করে দেয়। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে গোলাম সারোয়ারের নামে অবৈধ নামজারি বহাল রাখে।

ইতিমা লিখেন, নারায়ণ মন্ডল ও গোলাম সারোওয়ারের তপশিল ভিন্ন, চৌহদ্দি ভিন্ন। গোলাম সারোয়ারের জাতীয় পরিচয়পত্র ও জাল দলিলের নামের মিল নেই, দলিলের স্টাম্প নম্বরেও মিল নেই। এ ছাড়া খুলনা ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইবুনাল, সহকারী জজ আদালত ও মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় এবং নারায়ণ মন্ডল ও গোলাম সারোয়ারের তপশিল ভিন্ন ভিন্ন হওয়া সত্যেও কীভাবে বটিয়াঘাটা এসিল্যান্ড মি. মাসুদ নারায়ণ মন্ডলের সম্পত্তি গোলাম সারোয়ারের নামে অবৈধ নামজারি বহাল রাখেন? বিষয়টা এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। নামজারি বহাল পেয়ে সুরঞ্জন সুতার আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

তিনি আরও লিখেন, সুরঞ্জন সুতার আমাদের বসতবাড়ি ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করে এবং প্রকাশ্যে জীবননাশের হুমকি প্রদর্শন করে। এই বলে বাবাকে হুমকি দেয়, আগামী ৭ দিনের মধ্যে ভারতে চলে না গেলে, প্রকাশ্যে তোর মেয়েকে রেপ করে মেরে ফেলব। তোর পরিবারের সবাইকে পুড়িয়ে মারব। তোদের লাশের নাম নিশানা খুঁজে পাবে না কেউ। ভয়ংকর এই সন্ত্রাসী ইতোপুর্বে এলাকায় জমি গ্রাস করার জন্য অনেককে গুম করেছে। তার ভয়ে এলাকাবাসী মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না। তার অবৈধ টাকার কাছে স্থানীয় প্রশাসন জিম্মি। প্রশাসনের এক বড় আমলা ও সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী টাকার বিনিময়ে তার অবৈধ কাজে সহায়তা করে। প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা আপনার আশু হস্তক্ষেপ ছাড়া সুরঞ্জন সুতার আমাদের বাঁচতে দেবে না। আমরা বাঁচতে চাই। মমতাময়ী মা আমাদের বাঁচান। আমাদের বসতবাড়ী উদ্ধারসহ দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমাদের বাঁচান।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com