সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবিতে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সভা

সোমবার সেগুনবাগিচায় সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবিতে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সভা।
সোমবার সেগুনবাগিচায় সংরক্ষিত নারী আসনে সরাসরি নির্বাচনের দাবিতে নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সভা।ছবি : কালবেলা

জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন। সংরক্ষিত নারী সদস্যরা সাধারণ আসনের নির্বাচিত সদস্য দ্বারা মনোনীত।

সংবিধানের ৬৫ (৩) ধারা অনুযায়ী এই আসনগুলো সংরক্ষিত এবং নির্বাচন পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়লেও নির্বাচন পদ্ধতি বদলায়নি। অথচ নারীদের মধ্যে দুর্নীতিপ্রবণতা কম। নারীর ক্ষমতায়নে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টি নিজ নিজ দলের নারীদের সরাসরি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দিতে হবে।

নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার আয়োজনে আজ সোমবার বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি সেগুনবাগিচায় ‘জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সরাসরি নির্বাচনের দাবি’ শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান এবং নারী পক্ষের সদস্য জাহানারা খাতুন।

সভাপ্রধান ছিলেন নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সভানেত্রী ফরিদা আখতার। সঞ্চালনা করেন নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সহসভানেত্রী সীমা দাস সীমু।  

মতবিনিময় সভার সভাপ্রধান নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার সভানেত্রী ফরিদা আখতার বলেন, ‘দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক দলগুলো বিভিন্ন দাবি উত্থাপন করছে। যদিও সংবিধানের ৬৫(৩) ধারা অনুযায়ী এই আসনগুলো সংরক্ষিত রয়েছে। এর নির্বাচন পদ্ধতিও নির্ধারণ করা হয়েছে। আসন সংখ্যা এবং মেয়াদ কয়েক ধাপে বেড়ে ৫০ হলেও নির্বাচন পদ্ধতি বদলায়নি। কারণ ততদিনে এই বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে গেছে, আসন সংরক্ষণের প্রয়োজন থাকলেও তা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত বা মনোনীত হলে এই সদস্যদের অবমাননা হয়। তারা জনগণের পক্ষে, বিশেষ করে নারীদের জন্যে ভূমিকা রাখতে পারেন না। যত সংসদ নির্বাচন হয়েছে ততবারই নারী আন্দোলন সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানিয়েছে। অথচ ৩০০ আসনের নির্বাচিত সদস্য দ্বারাই দলের নারীদের মনোনীত করা হচ্ছে, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে যোগ্যতার ভিত্তিতে হচ্ছে না। দেশে নারী ভোটাররা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

ফরিদা আখতার আরও বলেন, ‘দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ছোট-বড় রাজনৈতিক দল ও জোট কাজ করছে। রাষ্ট্র সংস্কার, সংবিধান সংস্কার এমনকি একেবারেই নতুন করে সংবিধান রচনার প্রশ্নও তোলা হচ্ছে। মূলধারা বিরোধী দল এবং প্রগতিশীল দল এবং জোট কেউই সংবিধানে নারী আসন সংক্রান্ত পুরুষতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক পদ্ধতির বিরুদ্ধে টু শব্দটি করছে না। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে সরাসরি নির্বাচন দিয়ে সংবিধানে ৬৫(৩) ধারায় প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। ৩০০ আসনের এক-তৃতীয়াংশ (বা ১০০ আসন) করার যে দাবি তুলেছেন নারী সংগঠনগুলো এর সাথে আমাদের দ্বিমত নেই। সাধারণ আসনের কমপক্ষে ১০ শতাংশ আসনে নারীদের মনোনয়ন দিতে হবে। নারীরা পুরুষের মতোই সাধারণ আসনে নির্বাচন করবেন এটাই লক্ষ্য। কিন্তু সাধারণ আসনে রাজনৈতিক দলগুলো নারীদের মনোনয়ন কম দেওয়ায় বাধ্য হয়ে তাদের সংরক্ষিত আসনে যেতে হয়।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা বলেন, ‘সংসদে তিন ভাগ আসনে মনোনয়ন দিতে হবে এবং সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ও মনোনয়নের মেয়াদ অবশ্যই কমাতে হবে।’

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, ‘নারী সংসদ সদস্যরা পুরুষ সদস্যদের চেয়ে বেশি পরিশ্রমী। নারী সদস্যরা তার কাজের মাধ্যমে এলাকায় জনপ্রিয় হয়।  সেক্ষেত্রে তাকে সরাসরি মনোনয়ন দিতে হবে। সংসদে পরিবর্তন আনতে হবে। রাজনীতিতে নারীরা সোচ্চার, কিন্তু দলের ভেতর নারীরা কি আওয়াজ তোলেন? জোরালোভাবে তাদের আওয়াজ তুলতে হবে।’

বিশিষ্ট রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধানে নারী-পুরুষের সমতার কথা বলা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কোনো অঙ্গীকার নেই। সংরক্ষিত নারী আসন কোটা দিয়ে সীমাবদ্ধতা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ আসনে সরাসরি নির্বাচন করতে হবে।’

গণতন্ত্র মঞ্চের পক্ষে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘ভোটের অধিকার না থাকায় নারীরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণ আসনে ১৫-২০ শতাংশ আসনে নারীদের মনোনয়ন বাধ্যতামূলক করা দরকার। গণঅধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের সরাসরি নির্বাচনের পক্ষে মত পোষণ করেন।’

নারী পক্ষের সদস্য জাহানারা খাতুন বলেন, নারীরা জনগণ এবং নারীদের সমস্যা বেশি অনুভব করেন। তাই নারীদের সরাসরি নির্বাচন দিতে হবে।

উন্মুক্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন অধ্যাপক ফ্লোরা সরকার, কবি ও কথাসাহিত্যিক রোকেয়া ইসলাম, কথাসাহিত্যিক নূর কামরুণ নাহার, গার্মেন্ট শ্রমিক রোজিনা আক্তার সুমি, গণঅধিকার পরিষদের ফাতিমা তাসনিম, প্রত্যাশা, মাদকবিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক হেলাল আহমেদ ও শ্রমজীবী নারী নেত্রী সভাপতি বহ্নিশিখা জামালী।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
logo
kalbela.com