পাহাড়ি আদিবাসী ও নারীদের নিরাপত্তা সংকটবিষয়ক বৈঠক অনুষ্ঠিত

ডেইলি স্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে গোলটেবিল বৈঠক।
ডেইলি স্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে গোলটেবিল বৈঠক।ছবি : কালবেলা

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন, এএলআরডি, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫ বছরপূর্তিকে সামনে রেখে ‘চুক্তির বাস্তবায়নে সরকারের উদাসীনতা : পাহাড়ি আদিবাসী ও নারীর নিরাপত্তা সংকট’-বিষয়ক এক গোলটেবিল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় ডেইলি স্টার সেন্টারের আজিমুর রহমান কনফারেন্স হলে এই বৈঠক হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের সদস্য ও ‘নিজেরা করি’র সমন্বয়কারী খুশী কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনায় প্যানেল আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, সাবেক তথ্য কমিশনার ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা, কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা প্রমুখ।

বৈঠকে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চাকমা সার্কেল চিফের উপদেষ্টা রাণী য়েন য়েন এবং রিইবের নির্বাহী পরিচালক ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা।

খুশী কবির বলেন, ‘এদেশের নাগরিক হিসেবে সবার জানা দরকার চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫ বছর পরও কেন চুক্তি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।’

তিনি ২০১৪ সালে পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের ওপর সহিংস হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতেই কীভাবে এ ধরনের সহিংস হামলা করা সম্ভব? আমরা চেয়েছিলাম একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ, যেখানে ধর্ম, বর্ণ, নির্বিশেষে সব নাগরিক সমঅধিকার, সমান মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে পারে সেটা নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব।’

ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা বলেন, ‘সরকারি ভাষ্যমতে, চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে এবং অপর ১৫টি ধারা আংশিক বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু চুক্তি স্বাক্ষরকারী অপর পক্ষ পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মতে, ৭২টির মধ্যে মাত্র ২৫টি ধারা বাস্তবায়িত হয়েছে, অবশিষ্ট ১৮টি ধারার আংশিক এবং বাকি ২৯টি ধারা সম্পূর্ণভাবে অবাস্তবায়িত রয়েছে বলে জেএসএসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।’

রাণী য়েন য়েন বলেন, ‘পার্বত্য চট্টগ্রামে আদিবাসী নারীদের প্রতি সহিংসতা ক্রমান্বয়ে বাড়ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিরাপত্তা বাহিনী যখন এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তখন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা বাহিনী নির্যাতিতার পরিবারের ন্যায় বিচার প্রাপ্তিকে যেমন বাধাগ্রস্ত করে তেমনি অনেক ক্ষেত্রে যারা এসব অন্যায়ের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করে তাদেরও বিভিন্ন ধরনের হয়রানি ও হামলার শিকার হতে হয়।’

এ বিষয়ে তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জানান, ২০১৮ সালের ২২ জানুয়ারি রাঙামাটির বিলাইছড়িতে দুই মারমা কিশোরীকে যৌন নির্যাতনের প্রতিবাদ ও বিচার দাবি করতে গিয়ে তাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা শারীরিকভাবে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়েছিল।

সিকি শতক অতিবাহিত হলেও চুক্তি বাস্তবায়নে রাষ্ট্র কথা রাখেনি উল্লেখ করে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘চুক্তি বাস্তবায়নে সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি করতে না পারা।’

ড. সাদেকা হালিম বলেন, নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, ‘সাম্প্রতিক সময়ে ঢাকা থেকে একটি নাগরিক প্রতিনিধি দল বান্দরবানের লামার সরই ইউনিয়নে সদ্য নির্মিত একটি স্কুল পরিদর্শন করার জন্য যেতে চাইলে তাদের লামা রাবার কোম্পানির লোকজন বাধা প্রদান করে।’

শামসুল হুদা বলেন, ‘সেটেলারদের পার্বত্য চট্টগ্রামে পুনর্বাসনের কাজটি জেনারেল জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। বর্তমান সরকার বিরোধী দল বিএনপির বিভিন্ন পলিসি/কাজের বিরোধিতা করলেও পার্বত্য চট্টগ্রামে জিয়ার শাসনামলের বিভিন্ন পন্থা এখনো কেন অনুসরণ করে চলছে।’

এ ছাড়া আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা, আফজাল হোসেন, রেঙয়াং, প্রভারানী বাড়াইক প্রমুখ।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com