বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন বিদ্যা সিনহা মিম

সিলেটে বন্যায় বিপর্যস্ত শিশুদের সঙ্গে ইউনিসেফ বাংলাদেশের শুভেচ্ছাদূত বিদ্যা সিনহা মিম
সিলেটে বন্যায় বিপর্যস্ত শিশুদের সঙ্গে ইউনিসেফ বাংলাদেশের শুভেচ্ছাদূত বিদ্যা সিনহা মিম

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে গত মে-জুন মাসে আঘাত হানা বন্যায় বিপর্যস্ত শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে এ সপ্তাহে সিলেট সফর করেছেন ইউনিসেফ বাংলাদেশের জাতীয় শুভেচ্ছাদূত বিদ্যা সিনহা মিম।

দুই দিনের সফরে তিনি দেখেছেন বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ল্যাট্রিন, পানি সংগ্রহ কেন্দ্র, স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু ও পুনর্নির্মাণে ইউনিসেফ কীভাবে ভূমিকা রাখছে। এছাড়া বন্যার পর শিশুদের ও তাদের পরিবারকে যারা সহায়তা করেছেন, তাদের সাথেও দেখা করেন মিম।

সিলেটে শিশু ও তাদের বাবা-মায়েদের কাছ থেকে যে গল্পগুলো শুনেছি তা হৃদয়বিদারক। বন্যার কারণে তাদের জীবন ওলট-পালট হয়ে যাওয়ার মাঝেও তারা অবিশ্বাস্য রকমের দৃঢ়তা দেখিয়েছে। আমাদেরকে অবশ্যই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে এবং তাদের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠায় সহায়তা করতে হবে।
বিদ্যা সিনহা মিম, শুভেচ্ছাদূত, ইউনিসেফ বাংলাদেশ

১০ বছর বয়সী নাজিমুল মিম কে বলেন “প্রথমে যখন ঘরে পানি আসতে শুরু করে তখন আমি কিছুই বুঝতেছিলাম না। আমার জামা কাপড়, বই, ঘরের সব জিনিস কোনো কিছুই বাদ ছিল না। সবকিছু পানিতে ভাইসা যায়। আমারে যদি স্কুলে (আশ্রয়কেন্দ্রে) না নিয়ে আসা হইতো তাইলে আমিও ভাইসা যাইতাম। তিন-চারদিন না খায়া ছিলাম। আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার পর সেখানে মুড়ি, চিড়া এসব শুকনো খাবার দেয়।“

মিমের সফর আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পানি কমার পরও বাংলাদেশের শিশুরা বন্যা ও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত  বিভিন্ন দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। আজ মিম সেই শিশুদের দুর্দশার কথা তুলে ধরছেন যারা বন্যার কয়েক মাস পরও বিভন্ন সমস্যার সম্মুখীন এবং যাদের এখন সহায়তা প্রয়োজন।

মি. শেলডন ইয়েট, বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি

প্রায় দুই মাসব্যাপী ভয়াবহ বন্যার ফলে খাদ্য, পানি ও স্যানিটেশন সংকটে ৩৫ লাখ শিশুসহ ৭২ লাখ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। পানি কমে যাওয়ার কয়েক মাস পরও লাখ লাখ পরিবার এখনও সেই বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারেনি।

ইউনিসেফ জরুরি পানি, স্যানিটেশন, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সামগ্রী ও সেবা প্রদানে  এবং পানিতে ডুবে যাওয়া, পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নতা, সহিংসতা ও নির্যাতন থেকে শিশুদের সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দেয়ার মাধ্যমে সরকারের জরুরি বন্যা মোকাবিলা কার্যক্রমে সহায়তা করে । এখন পর্যন্ত ইউনিসেফের অব্যাহত সহায়তা থেকে উপকৃত হয়েছে ১০ লাখের বেশি মানুষ, যাদের ৪০ শতাংশ শিশু।

২০২২ সালের মে মাসে বাংলাদেশে ইউনিসেফের জাতীয় শুভেচ্ছাদূত নিযুক্ত হওয়া মিম সিলেটের একটি চা বাগান এবং ইউনিসেফ-সহায়তাপুষ্ট একটি কিশোর-কিশোরী ক্লাবের শিশু-কিশোরদের সাথেও দেখা করেন।

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com