বিশেষ দিনের সেরা উপহারে আপ্লুত ছোটন

কোচ ছোটনকে শূন্যে তুলে মেয়েদের উল্লাস।
কোচ ছোটনকে শূন্যে তুলে মেয়েদের উল্লাস।ছবি : সংগৃহীত

আট বছর আগে যে দিনে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন, সেদিনেই দেশকে দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের মুকুট এনে দিলেন গোলাম রব্বানী ছোটন। শিরোপাটা শিষ্যদের কাছ থেকে জীবনের সেরা উপহার হিসেবে গ্রহণ করেছেন অভিজ্ঞ এ কোচ।

‘আমি বরাবরই মেয়েদের স্যালুট জানাই। তাদের পরিশ্রমের ফলেই আজ বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিশেষ দিনে তাদের এ অর্জনকে জীবনের সেরা উপহার হিসেবে নিয়েছি আমি। আমার তরফ থেকে পাওয়া স্ত্রী হোসনে আরা লিলির জীবনেরও অন্যতম সেরা উপহার ছিল এটা’− কাঠমান্ডু থেকে কালবেলা স্পোর্টসকে বলছিলেন বাংলাদেশ নারী দলের কোচ।

আমি বরাবরই বলে আসছিলাম− একটু সময় দিন, মেয়েরা পরিণত হলে তারাও সাফল্য এনে দেবে। কিন্তু তারপরও অনেকে নেতিবাচক কথাবার্তা বলতেন।

গোলাম রব্বানী ছোটন, নারী ফুটবল দলের কোচ

২০০৯ সালের জুনে নারী দলের সঙ্গে যুক্ত হন গোলাম রব্বানী ছোটন। ঢাকা এসএ গেমসের প্রস্তুতি পর্বে জাতীয় দলে তার ভূমিকা ছিল প্রধান কোচ শহিদুর রহমান সান্টুর সহকারী। প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর কাটিয়ে দিয়েছেন এক যুগেরও বেশি। এ সময় বাংলাদেশের অনেক ‘প্রথম’ জন্ম দিয়েছেন গোলাম রব্বানী ছোটন।

তালিকায় সবশেষ সংযোজন নারী সাফ শিরোপা। সাফল্যের পর কিছুটা আক্ষেপও ছিল এ কোচের কণ্ঠে। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে এশিয়ান জোনাল থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিটি বয়সভিত্তিক দল সাফল্য পেয়েছে। আমি বরাবরই বলে আসছিলাম− একটু সময় দিন, মেয়েরা পরিণত হলে তারাও সাফল্য এনে দেবে। কিন্তু তারপরও অনেকে নেতিবাচক কথাবার্তা বলতেন।’

কোচ ছোটনকে শূন্যে তুলে মেয়েদের উল্লাস।
সাবিনাদের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ছাদ খোলা বাস

দক্ষিণ এশিয়ার শ্রেষ্ঠত্বের পর গোলাম রব্বানী ছোটনের দৃষ্টি এবার এশিয়ায়। বললেন, ‘আমাদের মেয়েরা যে প্রক্রিয়ায় এগুচ্ছে। সবার সহায়তা থাকলে তাদের নিয়ে এশিয়ান পর্যায়েও ভালো কিছু করা সম্ভব। আমরা সেদিকে দৃষ্টি দিতে চাই। মেয়েরাও এশিয়ান পর্যায়ে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায়।’

নেপালকে হারানোর পর মেয়েদের উচ্ছ্বাস
নেপালকে হারানোর পর মেয়েদের উচ্ছ্বাসছবি: সংগৃহীত

টাঙ্গাইলের গোপালপুর থেকে আসা সাবেক এ ফুটবলার যোগ করেন, ‘সাবিনা ছাড়া দলের বাকি ফুটবলারদের বয়স ১৭, ১৮, ১৯। এ প্রতিযোগিতায় আমাদের লক্ষ্য ছিল ফাইনাল খেলা। বাস্তবতা হচ্ছে, আমরা আসলে আরও ২-৩ বছর পর শিরোপার প্রত্যাশা করছিলাম। মেয়েদের একাগ্রতায় তার আগেই সাফল্য এসেছে। এ জন্য আমি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ।’

কোচ ছোটনকে শূন্যে তুলে মেয়েদের উল্লাস।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের ‘এক ডজন’ সাফল্য

এ সাফল্যকে সূচনা উল্লেখ করে গোলাম রব্বানী ছোটন ভবিষ্যৎ সম্পর্কে বলেছেন, ‘বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলে প্রচুর প্রতিভাবান ফুটবলার রয়েছে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি (কাজী মো. সালাউদ্দিন) ও নারী বিভাগের চেয়ারম্যান (মাহফুজা আক্তার কিরণ) বেশ আন্তরিক। তারা যে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছেন, তা অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ আরও বড় সাফল্য পাবে।’

এ সম্পর্কিত খবর

No stories found.
kalbela.com